জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল বন্ধ, বিপাকে রোগীরা
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল বন্ধ, বিপাকে রোগীরা
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে এখন চরম সংকট চলছে। হাসপাতালটির মোট ছয়টি মেশিনের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে বর্তমানে কেবল দুটি মেশিন সচল রেখে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এই সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত দেড় মাস ধরে নতুন রোগীদের রেডিওথেরাপির নিবন্ধন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এরপর তাঁর রেডিওথেরাপি নেওয়ার কথা। রেডিওথেরাপি বিভাগ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, আপাতত নতুন রোগীদের সিরিয়াল দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোনও সিরিয়াল পাচ্ছি না। মেশিন নষ্ট থাকায় দুই বছরের আগে সিরিয়াল পাওয়া যাবে না বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে।
পড়ুন>>নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ
এই হাসপাতালে রেডিওথেরাপি বন্ধ রয়েছে বা আমরা দিতে পারবো না, তা তো জানতামও না। এনআইসিআরএইচের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন রোগীর রেডিওথেরাপির কোর্স সম্পন্ন করতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। অথচ সংকট মোকাবিলায় সরকার কেন আগেই প্রয়োজনীয় মেশিনের ব্যবস্থা করেনি, সেই প্রশ্নও উঠছে।’।
চিকিৎসা নিতে আসা সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি রোগী বর্তমানে নতুন সিরিয়ালের অপেক্ষায় আছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত সিরিয়াল পাচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন জানান, আগের রোগীদের চাপের কারণে নতুন করে কাউকে থেরাপির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ক্যানসার রোগীদের জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি স্বীকার করেছেন। কারণ, আগের সিরিয়ালগুলোই প্রায় ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ আছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় চিকিৎসা ব্যাহত হলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ও রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সংস্থাটি এ চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
আরও প ড়ুন>>সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: গোপনীয় নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার চাপ একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন। তাই রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর জীবনঝুঁকি বাড়ে। অনেকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও যান।
গোপালগঞ্জ থেকে আগত মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, পেটে টিউমার অপারেশনের পর চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি রেডিওথেরাপির জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। গত ১৯ অক্টোবর সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো সিরিয়াল পাননি।
একইভাবে টাঙ্গাইলের সাথিয়া খাতুন স্তন ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর থেরাপি নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন টাঙ্গাইলের সাথিয়া খাতুন। সাথিয়া খাতুন বলেন, ‘সরকারিভাবে থেরাপি দেওয়ার জন্য এত দূর থেকে এসেছি।
সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এসে তারা এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। বেসরকারি হাসপাতালে থেরাপি নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই।
বর্তমানে কর্মরত দুটি মেশিনে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তিন শিফটে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এটি সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার হলেও বিপুল সংখ্যক রোগীর চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, সার্জারির পর ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে থেরাপি শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘসূত্রতা রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন>>নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবক্যান ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ জন মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭ হাজার ৮২০ জন এবং নারী ৭৯ হাজার ৪৪৩ জন। অধিকাংশ রোগী সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুনভাবে সিরিয়ালের অপেক্ষায় আছেন সাড়ে ৭ হাজার রোগী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে শুধু মেশিন স্থাপন করলেই হবে না, বরং রেডিওলজিক্যাল অনকোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট ও প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, ক্যানসার চিকিৎসাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সরকার ১৭টি নতুন লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মেশিনগুলোর মধ্যে ছয়টি ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে এবং ১১টি ঢাকার বাইরের সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। আশা করা যায়, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নতুন মেশিন আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্যানসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসায় যন্ত্রপাতির দীর্ঘসূত্রতা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। জীবনরক্ষাকারী এসব যন্ত্রপাতি দ্রুত আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান এবং ক্যানসার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও তিনি ব্যক্ত করেছেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























