ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল ৩ লাখের বেশি ভিসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে ভিসা বাতিলের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘অপেশাদার আচরণ’, তাৎক্ষণিক সরানো হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, এ তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে আবারও অভিবাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের কঠোর অবস্থানের চিত্র সামনে এলো।

মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক সোহরাব হোসেন।

এর আগে গত ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই তথ্য অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি আরও স্পষ্ট করেছে। ২০১৪ থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত সড়কে সোয়া লাখ মৃত্যু: যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইতিহাসের যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে এবং বেশি পরিমাণে ভিসা বাতিলের রেকর্ড গড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন, তাদের বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানাল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ণবৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সমালোচকদের মতে, তার বর্তমান প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও অত্যন্ত জটিল ও কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়ে দ্বিগুণ হলেও সক্ষমতায় পিছিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই কঠোর নজরদারির সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকার মূলধারার সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। বিচ্ছিন্ন কিছু জালিয়াতির ঘটনাকে ব্যবহার করে পুরো অভিবাসী গোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ফিলিস্তিনপন্থী অনেক বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লি কার্কের ওপর হত্যাচেষ্টা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্যের জেরেও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভিসা আবেদনকারী ও অভিবাসীদের ওপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি নিয়েও অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘খাঁটি অলরাউন্ডার’ মিনহাসকে পেয়ে আপ্লুত শাহীন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল ৩ লাখের বেশি ভিসা

আপডেট সময় : ০১:০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে ভিসা বাতিলের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘অপেশাদার আচরণ’, তাৎক্ষণিক সরানো হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, এ তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে আবারও অভিবাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের কঠোর অবস্থানের চিত্র সামনে এলো।

মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক সোহরাব হোসেন।

এর আগে গত ১০ আগস্ট পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই তথ্য অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি আরও স্পষ্ট করেছে। ২০১৪ থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত সড়কে সোয়া লাখ মৃত্যু: যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইতিহাসের যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে এবং বেশি পরিমাণে ভিসা বাতিলের রেকর্ড গড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন, তাদের বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানাল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ণবৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যদিও নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সমালোচকদের মতে, তার বর্তমান প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও অত্যন্ত জটিল ও কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়ে দ্বিগুণ হলেও সক্ষমতায় পিছিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই কঠোর নজরদারির সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকার মূলধারার সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। বিচ্ছিন্ন কিছু জালিয়াতির ঘটনাকে ব্যবহার করে পুরো অভিবাসী গোষ্ঠীকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ফিলিস্তিনপন্থী অনেক বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লি কার্কের ওপর হত্যাচেষ্টা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্যের জেরেও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভিসা আবেদনকারী ও অভিবাসীদের ওপর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি নিয়েও অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘খাঁটি অলরাউন্ডার’ মিনহাসকে পেয়ে আপ্লুত শাহীন।

Facebook Comments Box