অযৌক্তিক দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনাসভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন বা অতিরিক্ত মুনাফা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল রমজান মাস নয়, বরং সারা বছরই নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, বাজারে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। সরকার এই বাড়তি চাহিদাকে মাথায় রেখেই বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর রাখছে যাতে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া ও পণ্য পরিবহনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণেও স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়েছে। তবে আসন্ন শীত মৌসুম ঘিরে বাজারে প্রচুর নতুন সবজি আসবে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে সহায়ক হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের বাজার পর্যবেক্ষণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। মন্ত্রী মনে করেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার সামান্য ওঠানামাও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা কাম্য নয়।
বাজারে ভোক্তাদের আস্থা ফেরাতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। নিয়মিত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে পণ্যের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির চড়া দামের অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেও বহন করতে হয়। এই বোঝা পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সরকার নিজে অনেকাংশ বহন করে আসছে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার জরুরি। এছাড়া নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার সার্বিক পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক। সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























