সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার সাবেক গাড়িচালক এবং ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ওবায়দুর রহমান তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ঘটনাটিকে ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক চরিত্র হননের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আসা চিঠিতে ওবায়দুর রহমান জানান, গত ২০ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, এমপি নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তার দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছেন। ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর উত্তর কালশীর আলীনগরে সাবেক এক এসআইসহ তিন সন্ত্রাসী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করে। এরপর মা ও বোনের সহায়তায় উদ্ধার পেয়ে তিনি রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাচেষ্টার মূল নির্দেশদাতা এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এছাড়া এমপির বিরুদ্ধে ভুয়া জমি দখল, বালুমহল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং মব-সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ এনে সিসিটিভি ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী মরিয়ম বেগম (১৮) তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সম্পর্কে চালক ওবায়দুল্লাহর ভাগ্নি। ঘটনার বিবরণ দিয়ে এমপি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং চালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মগবাজারে শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬-৭ জন বহিরাগতকে ভেতরে ঢোকায় এবং তারা চাঁদা দাবি করে।
এমপি নজরুল ইসলামের দাবি, ওই দিন রাত ১০টার দিকে চালক ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ এবং শ্বশুরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না পেয়ে ফুটেজ বিকৃত ও এডিট করে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এটিকে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক চরিত্র হননের অপচেষ্টা উল্লেখ করে তিনি চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনমনে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন