সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যয়ে নতুন ফোরামের যাত্রা শুরু
- আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যয়ে নতুন ফোরামের যাত্রা শুরু
‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সাম্প্রদায়িক বিভাজন দূর করার প্রত্যয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম’।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সংগঠনের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ‘বিভেদ নয়, ঐক্য’ স্লোগান নিয়ে গঠিত এই ফোরামটি একটি অরাজনৈতিক ও দলনিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংগঠনটি ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
পড়ুন>>নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও শ্রীলঙ্কা: শিরোপার লড়াইয়ে মরিয়া দুই দল
এছাড়াও দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশাপাশি পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। একইসাথে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ শীর্ষক বক্তব্যকে ফোরামের মূল দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের সকল নাগরিককে অভিন্ন জাতিসত্তার বন্ধনে আবদ্ধ করতে কাজ করবে। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও গুজব প্রতিরোধে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সব ধরণের বিদ্বেষমূলক প্রচারণার জবাব দেবে। কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অহিংস পন্থায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফোরামের নেতারা। কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় যেন তার অধিকার বা নিরাপত্তার মানদণ্ড না হয়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তারা।
পড়ুন>>ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: সৌদি আরবে হুতিদের হামলা ও পাল্টা বিমান অভিযান
সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আইনি, সামাজিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। সেই সাথে সহিংসতা রোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার থাকবে সংগঠনটি।
সবশেষে, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা বহু, কিন্তু আমরা এক। আমাদের মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও বিহার আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি একটাই, ভাষা একটাই এবং ভবিষ্যৎও অভিন্ন।” দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ পরিহার করে নাগরিক সমতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় নতুন এই ফোরাম।


























