আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে বুধবার তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। এর আগে একই বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা একটি চিঠিতে জানান যে, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। তবে সায়মা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সংস্থাটি তাঁর বিরুদ্ধে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তুলেছে। সায়মার দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি বৈধভাবেই এর মালিকানা পেয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন যে, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার কারণে দীর্ঘ এক বছর তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি, যা তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে দুটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলোর তথ্যমতে, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে এবং ডিসেম্বরে যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে সায়মা দাবি করেন, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বিষয়টি আগেই মহাপরিচালক টেড্রোসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। সায়মা এ বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডব্লিউএইচও কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল যে সায়মা ছুটিতে রয়েছেন এবং গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে এই পদের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
সূত্র: দৈনিক এইদিন


























