মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতারা বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম লঙ্ঘন করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। মানুষ ও পরিবেশের সুরক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতিতে পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। দিনের শেষভাগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসলেও ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছাতে পারেনি জোটটি। তবে এবার ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বিশ্বনেতারা একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী। বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ বজায় রাখতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস জোটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কণ্ঠস্বর ও প্রভাব বৃদ্ধি করা। বর্তমান বৈশ্বিক মেরুকরণ ও অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে এই জোট শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার বার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সূত্র: দৈনিক এইদিন

















