ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা

তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজ এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন, জাল সনদ ব্যবহার, বিধিবহির্ভূতভাবে বেতন-ভাতা গ্রহণ, সরকারি রাজস্ব জমা না দেয়া, ব্যাংকিং বিধি উপেক্ষা করে নগদ অর্থ ব্যয় এবং সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছে। এসব অনিয়মের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ডিআইএ এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।

সবচেয়ে বেশি অর্থের অনিয়ম পাওয়া গেছে রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ পাওয়া ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকার নেয়া হলেও নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

পড়ুন>>ইতালির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে পেপ গার্দিওলা

এছাড়া নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির অনুমোদনের প্রয়োজনীয় নথিও কর্তৃপক্ষ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপককে চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা সিটি কলেজের প্রায় ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২২৯ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নগদে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য কেনা ও ঠিকাদারি কাজে উৎসে ভ্যাট কর্তন না করায় সরকারের ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার সম্মানীর বিপরীতে উৎসে আয়কর না কাটায় আরও ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া গভর্নিং বডির সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রহণ করেছেন, যা ফেরতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নরসিংদীর আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ ও বেতন-ভাতা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে। সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সহকারী গ্রন্থাগারিক নেছার উদ্দিন আহমদকে ২৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, জুনিয়র শিক্ষক শামসুন্নাহারকে ১১ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং জুনিয়র মৌলভী মানসুরা আক্তারকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

পড়ুন>>আসামির মৃত্যুর গুজবে বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুর

 

এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্কেলের বাইরে বেতন নেয়ার অভিযোগে আরবি প্রভাষক জহিরুল হকের কাছ থেকে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮৪ হাজার টাকা এবং কৃষি শিক্ষা শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাত শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে মোট ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া মাদ্রাসাটির ১ দশমিক ৮২ একর জমি বেহাত হওয়ার বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে এবং ফাজিল পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও অবকাঠামো নাজুক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজে আর্থিক লেনদেন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের ফি, বেতন, অনুদান ও নিজস্ব সম্পদের আয় ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় না করে ভিন্নভাবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা চেয়েছেন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজ এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন, জাল সনদ ব্যবহার, বিধিবহির্ভূতভাবে বেতন-ভাতা গ্রহণ, সরকারি রাজস্ব জমা না দেয়া, ব্যাংকিং বিধি উপেক্ষা করে নগদ অর্থ ব্যয় এবং সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছে। এসব অনিয়মের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ডিআইএ এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।

সবচেয়ে বেশি অর্থের অনিয়ম পাওয়া গেছে রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ পাওয়া ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকার নেয়া হলেও নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

পড়ুন>>ইতালির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে পেপ গার্দিওলা

এছাড়া নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির অনুমোদনের প্রয়োজনীয় নথিও কর্তৃপক্ষ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপককে চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা সিটি কলেজের প্রায় ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২২৯ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নগদে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য কেনা ও ঠিকাদারি কাজে উৎসে ভ্যাট কর্তন না করায় সরকারের ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার সম্মানীর বিপরীতে উৎসে আয়কর না কাটায় আরও ২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া গভর্নিং বডির সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রহণ করেছেন, যা ফেরতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নরসিংদীর আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ ও বেতন-ভাতা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের তথ্য মিলেছে। সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সহকারী গ্রন্থাগারিক নেছার উদ্দিন আহমদকে ২৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, জুনিয়র শিক্ষক শামসুন্নাহারকে ১১ লাখ ২১ হাজার টাকা এবং জুনিয়র মৌলভী মানসুরা আক্তারকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

পড়ুন>>আসামির মৃত্যুর গুজবে বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুর

 

এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্কেলের বাইরে বেতন নেয়ার অভিযোগে আরবি প্রভাষক জহিরুল হকের কাছ থেকে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮৪ হাজার টাকা এবং কৃষি শিক্ষা শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাত শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে মোট ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া মাদ্রাসাটির ১ দশমিক ৮২ একর জমি বেহাত হওয়ার বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে এবং ফাজিল পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও অবকাঠামো নাজুক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের আল হেরা কলেজে আর্থিক লেনদেন ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের ফি, বেতন, অনুদান ও নিজস্ব সম্পদের আয় ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় না করে ভিন্নভাবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা চেয়েছেন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box