প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে

এখন চলছে শ্রাবণ মাস। শ্রাবণধারায় প্রকৃতি এখন সতেজ হয়ে ওঠার কথা। তবে ভরা বর্ষায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বৃষ্টির দেখা নেই। প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসলের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের ঢালে জুমখেতের সবুজ ফসল দিনদিন হলুদ হয়ে উঠছে। আর কয়েক দিন এমন আবহাওয়া থাকলে জুমচাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উল্টো বিপুল লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও চিম্বুক পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির অভাবে আর কড়া রোদের কারণে ফসলের গাছ নেতিয়ে পড়ছে। কিছু গাছের গোড়া হলুদ রং ধারণ করে গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে উঁচু পাহাড়ের ঢালে রোদের তাপের সঙ্গে শুষ্ক হাওয়া জুমের ধানসহ সব ফসলের গাছ আরও বেশি শুকিয়ে তুলছে।
মা-বগালেক সড়কের শৈরতনপাড়া এলাকায় জুমঘরে বসে ছিলেন ম্যাসাংপ্রু মারমা (৬৫)। তিনি বলেন, জুমচাষের ফসল শ্রাবণের বৃষ্টিতে বেড়ে ওঠে। শ্রাবণের শেষে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহে ফলন শুরু হবে। কিন্তু ভরা বর্ষায় বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। জুম ফসল যতটুকু বেড়েছে, সেটা আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হয়েছে।
ম্যাসাংপ্রু মারমার মা এ চিং বলেন, ৮০ থেকে ৯০ আঢ়ি (এক আঢ়িতে ১০ কেজি) ফসল পাবেন আশা করেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় তাঁরা হতাশ। এতে অনেক লোকসান হবে।
পলিকাপাড়ার থোয়াই সি মং মারমা তিন আঢ়ি জমিতে প্রধান ফসল ধানের সঙ্গে তিল-তিসি ও হলুদের চাষ করেছেন। তবে রোদের তাপে তাঁর জুমের ধানগাছ, তিল-তিসি সবকিছু নেতিয়ে পড়েছে। মং মারমা বলেন, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ফসলের খেত সতেজ থাকে। তখন গাছগুলো কিছুটা মাথা তুলে দাঁড়ায়। কিন্তু বেলা বাড়লে গাছ নেতিয়ে পড়ে। এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে শ্রাবণের শেষে বৃষ্টিতেও খুব বেশি কাজে আসবে না।
চিম্বুক পাহাড়ের চিংক্লাং ম্রো বলেন, জুমচাষিরা সবাই বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। মরিচ, তিল-তিসি, ভুট্টাসহ ৪০ ধরনের ফসল পাওয়া গেলেও মূলত ধানের জন্য জুমচাষ করেন। বৃষ্টির অভাবে জুমে ধান না হলে অনাহারে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বান্দরবানে এ বছর জুমচাষ বেড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ২১ হাজার ৮৮৭ একর জমিতে চাষ হচ্ছে। গত বছর ২১ হাজার ৭৬৭ একর জমিতে চাষ হয়েছে। দুর্গম এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখনো জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। তাঁরা মূলত ধান উৎপাদনের জন্য জুমচাষ করেন। জেলার দুর্গম থানচিতে বেশি চাষ হয়ে থাকে। সেখানে এ বছর ৬ হাজার ৩৩৭ একর জমিতে জুমচাষ হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “প্রচন্ড রোদের তাপে জুমক্ষেতের ধানসহ সব ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে”

  1. You need to be a part of a contest for one of the finest sites online. I am going to recommend this blog!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!