ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে পিএইচডি ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকতায়
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে পিএইচডি ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকতায়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ৩০ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স, স্নাতক, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা। এমনকি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও যুক্ত হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ এ পেশায়। তবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষক রয়েছেন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী।
প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (আইপিইএমআইএস) ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ধরন ৩০টি। এ তালিকায় সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়ের ডিগ্রিধারীরাও রয়েছেন।
আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৯৯১ জন স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী। এ ছাড়া এইচএসসি পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪২ হাজার ৩০৪ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী ২০ হাজার ৯৮৪ জন।
অন্যান্য সাধারণ ডিগ্রির মধ্যে বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১১৯ জন, এসএসসি পাস ৮ হাজার ৫৭৯ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের ডিগ্রিধারীরাও শিক্ষকতা করছেন। তাঁদের মধ্যে কামিল ডিগ্রিধারী ৫ হাজার ৭৪০ জন, ফাজিল ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৯০১ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৯ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।
শিক্ষকতায় প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও আইনজীবীরাও
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও। তাঁদের মধ্যে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৬১৭ জন। কৃষিশিক্ষায় বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন।
আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৩৮৬ জন এবং এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৫ জন। শিক্ষা বিষয়ে এমএড ডিগ্রিধারী ৩৬০ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৮ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন এমন শিক্ষক রয়েছেন ৪৩৮ জন। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, নার্সিং এবং দন্তচিকিৎসার মতো বিষয়েও ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক ২৩ জন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন এবং এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন। এ ছাড়া বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী চারজন শিক্ষক রয়েছেন।
সবচেয়ে উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও রয়েছেন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৪২ জন শিক্ষক। পাশাপাশি বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন।
উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক ইতিবাচক, বলছে মন্ত্রণালয়
উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমফিল-পিএইচডি কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের শিক্ষকতা পেশায় আসার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক।’
উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নয়নে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি।
এ স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের উপস্থিতি একদিকে যেমন শিক্ষার সম্ভাবনাকে সামনে আনছে, অন্যদিকে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের উচ্চশিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
























