অনুমোদন ছাড়াই সিলেট-তামাবিল সড়কে কাটা হচ্ছে শত শত গাছ
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
অনুমোদন ছাড়াই সিলেট-তামাবিল সড়কে কাটা হচ্ছে শত শত গাছ
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশে চলছে নির্বিচারে গাছ কাটা। অথচ এই অংশটি চার লেনে উন্নীত করার কোনো পরিকল্পনা বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবুও সড়কের দুই পাশে থাকা শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আয়নাল হক জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তিনি সাত শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছেন এবং এই প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম সুরমা গেট থেকে শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত এলাকাটি প্রকল্পের আওতার বাইরে। প্রকল্পের কাজের আওতাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও গাছ কাটার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
পড়ুন>>বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী ফ্রান্স
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে মহাসড়কের দুই পাশে থাকা এই গাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়িয়েছিল এবং প্রখর গরমে পথচারীদের ছায়া দিয়ে স্বস্তি জোগাত। আকস্মিকভাবে এমন ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন স্থানীয়দের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
এই গাছ কাটার পেছনে বন বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান দাবি করেছেন, সওজের আবেদনের প্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এসব গাছ সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় রোপণ করা হয়েছিল।
পড়ুন>>জাতিসংঘে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রীর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তবে এই দাবির পুরোপুরি বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন সওজের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মো. সাদ্দাম হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, টিলাগড় থেকে সুরমা গেট পর্যন্ত অংশটি চার লেন প্রকল্পের অংশ নয়। তাই এই এলাকায় গাছ কাটার কোনো প্রয়োজন ছিল না এবং সওজের পক্ষ থেকে এই অংশের গাছ কাটার জন্য বন বিভাগকে কোনো আবেদনও করা হয়নি। তারা ঠিক কী উদ্দেশ্যে গাছ কাটছে, তা তাদের কাছে বোধগম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরো পড়ুন>>এইচএসসি পাসে চাকরির বড় সুযোগ: সরকারি-বেসরকারি খাতে হাজারো পদ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের দুই পাশে একের পর এক গাছ কাটা হয়েছে। কোথাও গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে, কোথাও আবার ডালপালা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কিছু ছোট গাছ ও ডালপালা এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হলেও সড়ক জুড়ে বৃক্ষ নিধনের ক্ষত স্পষ্ট।
পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আবদুল করিম কিম এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সব সময় কেবল বৃক্ষনিধন করতে দেখা যায়, কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ কখনোই দেখা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, বন বিভাগ মূলত উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেই এই গাছগুলো কাটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার থেকে সড়কটি পীর হবিবুর রহমান চত্বর ও শাহপরান সেতু হয়ে সুরমা গেট এলাকা দিয়ে তামাবিল সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরমা গেট থেকেই চার লেনের মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা। ফলে প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন একটি এলাকার গাছ কাটা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























