ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস রোগীদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি ও করণীয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য অণুজীবের মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও যেকোনো মানুষেরই নিউমোনিয়া হতে পারে, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি ও জটিলতা অনেক বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়ার রূপ নিতে পারে।

রক্তে উচ্চ মাত্রার শর্করা শ্বেতরক্তকণিকার কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক সুরক্ষা কবচ দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের কিডনি বা হৃদ্‌রোগের জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক গুণ বেশি। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে ডায়াবেটিস রোগীর শর্করা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা পানিশূন্যতা বা কিটো-অ্যাসিডোসিসের মতো বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁপুনিসহ জ্বর, কফসহ বা শুকনো কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া এবং বুকে ব্যথা। অনেক সময় অতিরিক্ত অবসাদ, ক্ষুধামান্দ্য বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা, বারবার বমি বা মাত্রাতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

চিকিৎসার বিষয়ে ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তালহা চৌধুরী বলেন, নিউমোনিয়ার কারণ ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। তিনি আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকার চেম্বারে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা অনুচিত, কারণ ভাইরাসের কারণে হওয়া নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি শর্করা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ অবস্থায় ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা একদমই ঠিক নয়; প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ধূমপান বর্জন করা জরুরি, কারণ এটি ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ায়। পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়তে হবে। টিকার বিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা নিউমোনিয়ার জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনতাই ডায়াবেটিস রোগীদের এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ডায়াবেটিস রোগীর নিউমোনিয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডায়াবেটিস রোগীদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি ও করণীয়

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউমোনিয়া ফুসফুসের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য অণুজীবের মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও যেকোনো মানুষেরই নিউমোনিয়া হতে পারে, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি ও জটিলতা অনেক বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়ার রূপ নিতে পারে।

রক্তে উচ্চ মাত্রার শর্করা শ্বেতরক্তকণিকার কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক সুরক্ষা কবচ দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের কিডনি বা হৃদ্‌রোগের জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক গুণ বেশি। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে ডায়াবেটিস রোগীর শর্করা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা পানিশূন্যতা বা কিটো-অ্যাসিডোসিসের মতো বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁপুনিসহ জ্বর, কফসহ বা শুকনো কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া এবং বুকে ব্যথা। অনেক সময় অতিরিক্ত অবসাদ, ক্ষুধামান্দ্য বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা, বারবার বমি বা মাত্রাতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

চিকিৎসার বিষয়ে ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তালহা চৌধুরী বলেন, নিউমোনিয়ার কারণ ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। তিনি আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকার চেম্বারে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা অনুচিত, কারণ ভাইরাসের কারণে হওয়া নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি শর্করা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ অবস্থায় ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ নিজের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা একদমই ঠিক নয়; প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ধূমপান বর্জন করা জরুরি, কারণ এটি ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ায়। পাশাপাশি নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়তে হবে। টিকার বিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা নিউমোনিয়ার জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনতাই ডায়াবেটিস রোগীদের এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ডায়াবেটিস রোগীর নিউমোনিয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়।

Facebook Comments Box