নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা: দুইজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি
- আপডেট সময় : ১০:২৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ২৬৯৮১ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা: দুইজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি
নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহনের দায়ে দুইজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি।
পরীক্ষা গ্রহনকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে পুনরায় ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হলেও অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ না করায় ফলাফল খারাপ হওয়ার শংকায় শিক্ষার্থীরা।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক: প্রশংসায় অভিভাবকরা
এ ব্যাপারে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রের ২০১ নং কক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর জানতে পেরে আবার নতুন বছরের সিলেবাস বিতরণ করা হয়। বিষয়টিতে আমরা বিব্রত। এটি নরসিংদীবাসীর মান-সম্মানের প্রশ্ন।
এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্রের প্রশ্ন আনা-নেয়া থেকে শুরু করে সর্বোপুরি দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারী মহিলা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এঘটনায় আরো বিস্তারিত তদন্তের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত শেষে বিস্তারিত বিবরণ লিখিতভাবে জানানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু: রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পরিবেশন করা রুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস: তদন্তে মিললো সত্যতা
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আমি নিজেই দ্রুত কেন্দ্রে পৌছে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি। ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, এই ঘটনার বিষয়ে আমরা সরাসারি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারিনা। আমরা কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছি।
কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, কেন্দ্র সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে কি করা যায় সেই বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও জেলা প্রশাসন পরামর্শ করছেন। হয়তো কোন একটা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। এই কেন্দ্রের প্রায় ৬শতাধিক শিক্ষার্থী এই সাবসেন্টারে প্রথম দিন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে।
এবছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮জন শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। এছাড়া প্রথমদিন অনুস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১৪জন।

























