দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রভাব: তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে? জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন মেসি: যেভাবে সংবর্ধনা দেবে আর্জেন্টিনা নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর কাতারে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন আমীর শেখ তামিম নেপাল ও তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ভেঙে কোটিপতি ভাড়াটিয়া: কক্সবাজারের গেস্ট হাউসে জালিয়াতি ও অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বেতন নিয়েও আলোচনা অ্যাস্টন ভিলার মাঠে বুকায়ো সাকার গোলে কষ্টার্জিত জয় পেল আর্সেনাল

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) থেকে আহাদ আলী নয়ন
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন।

 

 

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ

 

 

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও আনোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগ।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিইও) মোঃ আনোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে ঘুষ-দূর্নীতিসহ সেচ্ছাচারিতার ব্যাপক অভিযোগে ফুসে উঠেছে দৌলতপুরের শিক্ষক সমাজসহ সচেতন মহল।

 

 

এমনিতেই জনবল সংকটে থানা দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ ৮জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পদ থাকা সত্ত্বেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ব্যতিত মাত্র ২জন সহকারী শিক্ষা অফিসার দিয়ে কোনমতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে দৌলতপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।

 

 

 

এরই মধ্যে আবার দূৃনীতিবাজ, ঘুষখোর, সর্বোপরি একজন লম্পট শিক্ষা কর্মকর্তার সীমাহিন কালো থাবার স্বীকার দৌলতপুরের ৫টি ক্লাস্টারের ১৩৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৭শত শিক্ষক।

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারীতে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ

 

 

 

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতিবাজ এই সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকেই কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুল ভিজিট এর নামে জোরপূর্বক তেল খরচ এর নামে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

এমনকি তিনি পদাধীকার বলে এই ১৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দ্বায়িত্বে থাকায় ১৩৫জন প্রধান শিক্ষকের কাছে তার ১কপি ষ্টাম্প সাইজের ছবি সরবরাহ বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ১মত টাকা করে আদায় করেছেন এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষদের ভয়ভীীত দেখিয়ে শ্লিপের টাকা থেকেও মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করেন এই এটিইও মোঃ আনোয়ার হোসেন।

পড়ুন>> তাহিরপুরের চারটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় শুভঙ্করের ফাঁকি

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আয়তনের দিক থেকে একটি বৃহৎ এলাকা ও পদ্মানদী বেষ্টিত হওয়ায় ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মূল ভুখন্ড থেকে নদীদ্বারা বেষ্ঠিত। আর এতেই বেড়ে গেছে তার ঘুষ বানিজ্যসহ অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার পায়তারা।

 

 

দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ২১৭টি স্কুল নিয়ে দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক ৮টি ক্লাস্টার নিয়ে পরিচালিত হয় দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। পূর্বে থেকেই অত্যান্ত সুশৃংখলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল এই ক্লাষ্টারভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু মোঃ আনোয়ার হোসেন নামে এই দূর্নীতিবাজ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দৌলতপুরে যোগদানের পর থেকেই তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অফিসের বিভিন্ন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষ বাণিজ্য চালাবার জন্যে চরাঞ্চলের ক্লাস্টারের দায়িত্বসহ ৮টি ক্লাস্টারের মধ্যে ৫টি ক্লাস্টারের দায়িত্ব একাই নামমাত্র পালন করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষককে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে ওই শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে থাকেন বলে একাধিক অভিযোগে জানা যায়।

আরও পড়ুন>> রাঙামাটিতে ডিবি’র চিরুনি অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

 

 

তিনি সহকারী শিক্ষা অফিসার দৌলতপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই অনেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষিকাকে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা করে দেওয়ার নাম করে কু-প্রস্থাব দিয়ে সেই শিক্ষিকাদের হাতে একাধিকবার লাঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগে জানা যায়।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরে প্রতি ৩ মাস পরপর একবার করে ক্লাস্টার ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর নির্দেশনা মোতাবেক ৮টি ক্লাস্টারেই এই ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

দূর্নীতিবাজ এই এটিইও মোঃ আনোয়ার হোসেনের দ্বায়িত্বে থাকা ৫টি ক্লাস্টার মথুরাপুর, ফিলিপনগর,জয়পুর, আল্লারদর্গা ও দৌলতপুর নিয়ে ১৩৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট প্রায় সড়ে ৭শত জন শিক্ষকের মাথাপিছু ভ্যাটবাদে ৫১৩টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও এই ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ এটিইও সংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে ৭শত জন শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতি ক্লাস্টার ট্রেনিং এ মাথাপিছু ১শত ১৩ টাকা করে কম দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মূল টাকার ঘরে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগি শিক্ষকরা অভিযোগে জানান।

 

আরও পড়ুন>>নীলফামারীতে বিষপানে নারীর মৃত্যু

 

 

উপজেলার তারাগুনিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম অভিযোগে জানান, এই অসৎ দূর্নীতিবাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন অত্যান্ত নি¤œমানের প্রায় ৫হাজার টাকা মূল্যের খাতা তারাগুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিক্রি করার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে ঐ বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকার চেক বই এ আজও স্বাক্ষর করেন নাই।

 

তিনি আরও জানান, এই দূর্নীতিবাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন তার দ্বায়িত্বে থাকা ৫টি ক্লাস্টার এর ১৩৫টি স্কুলের প্রায় সাড়ে ৭শত শিক্ষককে প্রতি ক্লাস্টার ট্রেনিং এ ১শত টাকা করে কম দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।

 

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগে জানান, এই দুর্নীতিবাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রতিবার তারাগুনিয়া ক্লাস্টারসহ ৫টি ক্লাস্টারেই প্রতি শিক্ষকদের ট্রেনিং থেকে ১১৩টাকা করে জোরপূর্বক ঘুষ আদায় করেন। এবং তার অধিনে থাকা ১৩৫টি স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে জোরপূর্বক কমদামের অত্যান্ত নিম্নমানের খাতা প্রেস থেকে ছাপিয়ে এনে প্রত্যেকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫হাজার টাকার খাতা জোরপূর্বক বিক্রির জন্য চাপিয়ে দেন এবং দিগুন বা তিনগুন দামে কোমরমতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করায়ে দেদারছে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্য করে যাচ্ছেন।

 

 

 

উপজেলার ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ শাহীন আক্তার জানান, এটিইও মোঃ আনোয়ার হোসেন দৌলতপুর শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

    তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলের বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে বাজে আচরন করেন এই দূর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা এমনটা তিনি অনেক শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনেছেন।

 

 

 

উপজেলার নাসির উদ্দীন বিম্বাস হিসনাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাহেড়ী আক্তার জানান, এই দূর্নীতিবাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন তার অধীনে থাকা ৫টি ক্লাস্টারের প্রায় ৭শত জন শিক্ষককে ক্লাস্টার ট্রেনিং এ ১১৩ টাকা করে কম দেন এবং ১৩৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকজন প্রধান শিক্ষককে ৩৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার খাতা প্রেস থেকে ছাপিয়ে এনে জোরপূর্বক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দিগুন বা তিনগুণ দামে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

এব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুস্তাক আহমেদ জানান, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে সাব-ক্লাস্টার ট্রেনিং এর টাকা কম দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ও অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

 

 

 

বিভাগীয় কোন অনুমতি ছাড়াই নিম্নমানের খাতা ছাপিয়ে এনে চড়াও দামে জোরপূর্বক শিক্ষদের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগও পেয়েছেন যার সত্যতা আছে বলে স্বীকার করেছেন দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এব্যাপারে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেনকে কয়েকদিন অফিসে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে বারবার ফোনকল করলেও তিনি ফোন রিসিপ করেন নাই।

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!