ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নেপালে বন্যায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্পগুলোর ৯৩৩ জন নিখোঁজ ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটি কাটার ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় সুড়ঙ্গগুলো খুলে উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

 

পড়ুন>>বাংলাদেশসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাদার গভীরতা এত বেশি যে সেখানে চলাচল করা কঠিন। রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকারী দল কাঠের তক্তা ব্যবহার করে অস্থায়ী সেতু তৈরি এবং দড়ির সাহায্যে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

 

 

গুরুং বলেন, প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে গিয়ে তারা ধ্বংসাবশেষের স্তূপ দেখেছেন। তবে প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে হয়তো কেউ কেউ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।

গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালে বর্তমানে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে এই সংখ্যা প্রায় ৫০০। হিমালয় অঞ্চলজুড়ে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগেরই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পড়ুন>>ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে “নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা এখনো কঠিন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযানে বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।

 

নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই, তবে সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেপালে বন্যায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক

আপডেট সময় : ০৫:০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপালে বন্যায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্পগুলোর ৯৩৩ জন নিখোঁজ ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটি কাটার ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় সুড়ঙ্গগুলো খুলে উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

 

পড়ুন>>বাংলাদেশসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাদার গভীরতা এত বেশি যে সেখানে চলাচল করা কঠিন। রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকারী দল কাঠের তক্তা ব্যবহার করে অস্থায়ী সেতু তৈরি এবং দড়ির সাহায্যে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

 

 

গুরুং বলেন, প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে গিয়ে তারা ধ্বংসাবশেষের স্তূপ দেখেছেন। তবে প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে হয়তো কেউ কেউ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।

গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালে বর্তমানে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে এই সংখ্যা প্রায় ৫০০। হিমালয় অঞ্চলজুড়ে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা শত শত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগেরই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পড়ুন>>ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে “নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা এখনো কঠিন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও উদ্ধার অভিযানে বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।

 

নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই, তবে সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box