ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২১৮৪৪ বার পড়া হয়েছে

জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকায় নদীভাঙন রোধের দাবিতে নারী-পুরুষের মানববন্ধন ও সমাবেশ।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ

 

 

 

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হুমকির মুখে জনপদ, স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন।

 

 

 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনপদজুড়ে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী, যারা তাদের প্রিয় স্কুল রক্ষার দাবিতে সরব হয়।

পড়ুন>>দুধকুমরের ভাঙনে আতঙ্ক: বাঁধ নির্মাণের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের চোখেমুখে ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তার ছাপ। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” তার সহপাঠী রাব্বি জানায়, “আমরা শুধু আমাদের স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”

 

 

 

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। নদী যদি এটাও নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা ও বৃদ্ধ শাহাবুর। নওশের আলী বলেন, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।”

পড়ুন>> কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ

 

স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।

 

 

 

সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। অথচ আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার স্থানান্তরিত হয়। তাদের যেন দেখার কেউ নেই।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

 

 

 

এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”

 

আরও পড়ুন>>রংপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী

 

 

 

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে বসতভিটার দিকে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে জনপদ, হারিয়ে যেতে পারে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন আর শিক্ষার আলো।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ

আপডেট সময় : ১০:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

 

 

 

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ

 

 

 

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারানোর আশঙ্কা: নদীর পাড়ে মানুষের আর্তনাদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হুমকির মুখে জনপদ, স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন।

 

 

 

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনপদজুড়ে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী, যারা তাদের প্রিয় স্কুল রক্ষার দাবিতে সরব হয়।

পড়ুন>>দুধকুমরের ভাঙনে আতঙ্ক: বাঁধ নির্মাণের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন

 

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের চোখেমুখে ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তার ছাপ। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” তার সহপাঠী রাব্বি জানায়, “আমরা শুধু আমাদের স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”

 

 

 

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। নদী যদি এটাও নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন আকলিমা, কবিজন নেছা ও বৃদ্ধ শাহাবুর। নওশের আলী বলেন, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।”

পড়ুন>> কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ

 

স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি।

 

 

 

সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়। অথচ আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার স্থানান্তরিত হয়। তাদের যেন দেখার কেউ নেই।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

 

 

 

এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”

 

আরও পড়ুন>>রংপুরে এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী

 

 

 

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে বসতভিটার দিকে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে জনপদ, হারিয়ে যেতে পারে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন আর শিক্ষার আলো।

 

 

 

Facebook Comments Box