ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: কম দামে বিক্রি ঠেকাতে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৯৮৫৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: কম দামে বিক্রি ঠেকাতে চাপ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: কম দামে বিক্রি ঠেকাতে চাপ

 

 

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে গেলে ফার্মেসিগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে বলেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।প

পড়ুন>> তাড়াশে জব্দকৃত পেট্রোল বিক্রির টাকা সরকারী কোষাগারে জমা

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো কোনো ফার্মেসি ওষুধের গায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি)-এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে উদ্যোগী হলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। এতে করে বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

 

এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

এদিকে বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

 

পড়ুন>>নড়াইলে তেল না পেয়ে ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা

 

 

জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি হয়। তাদের দপ্তর মূলত ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, মূল্য নির্ধারণ করে না। তবে কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করেন।

 

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম  জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে সীমিত হারে ছাড় পাওয়া যায়। কম দামে বিক্রি করলে দোকান পরিচালনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে ছুরিকাঘাত করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই

 

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা। এর বেশি নেওয়া যাবে না, তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় কম দামে কিনতে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

 

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুড়িগ্রামের ওষুধ বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: কম দামে বিক্রি ঠেকাতে চাপ

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: কম দামে বিক্রি ঠেকাতে চাপ

 

 

কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে গেলে ফার্মেসিগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে বলেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর অবৈধ চাপ প্রয়োগ করছে।প

পড়ুন>> তাড়াশে জব্দকৃত পেট্রোল বিক্রির টাকা সরকারী কোষাগারে জমা

 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো কোনো ফার্মেসি ওষুধের গায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি)-এর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে উদ্যোগী হলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। এতে করে বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

 

এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪০, ৪১ ও ৪৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

 

এদিকে বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

 

পড়ুন>>নড়াইলে তেল না পেয়ে ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা

 

 

জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি হয়। তাদের দপ্তর মূলত ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, মূল্য নির্ধারণ করে না। তবে কুড়িগ্রাম শহর ও উলিপুরে দাম নিয়ে অভিযোগের কথা তিনি স্বীকার করেন।

 

 

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম  জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো থেকে সীমিত হারে ছাড় পাওয়া যায়। কম দামে বিক্রি করলে দোকান পরিচালনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে ছুরিকাঘাত করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই

 

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা। এর বেশি নেওয়া যাবে না, তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সাধারণ ক্রেতারা জানান, একই ওষুধ ভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় কম দামে কিনতে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

 

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুড়িগ্রামের ওষুধ বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং ভোক্তাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

Facebook Comments Box