স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৯৫৬ বার পড়া হয়েছে
স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার
স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার।
দেশের সাধারণ মানুষ এখনও চিকিৎসা নিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্বাস্থ্য খরচ মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হয়—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব এ তথ্য জানিয়েছে। বহু পরিবার সঞ্চয় শেষ করে, ধারদেনা করে বা সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়। এতে অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি দেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ—ইউএইচসি) অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। অর্থাভাবে বহু মানুষ চিকিৎসাই নিতে পারেন না। আবার অনেকে চিকিৎসা করতে গিয়ে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
ইউএইচসির মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেকে যেন আর্থিক ঝুঁকি ছাড়া প্রয়োজনীয়, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান এবং কেউ যেন চিকিৎসার খরচের কারণে দরিদ্র হয়ে না পড়েন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়। শুরুতে কিছু অগ্রগতি হলেও ২০১৫ সালের পর থেকে এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
ডব্লিউএইচওর সূচকে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ইউএইচসি স্কোর ছিল ৪৫। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৫২ হলেও ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪তে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে এই স্কোর ৭৪ এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত আছে, কিন্তু সেই গতির ঘাটতি স্পষ্ট।
অতিরিক্ত ব্যক্তি খরচও স্বাস্থ্য খাতে বড় সমস্যা। ২০১২ সালে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ রোগীদের পকেট থেকে আসত; ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অথচ কৌশলপত্রে ২০৩২ সালের মধ্যে এটি নামিয়ে ৩২ শতাংশে আনার কথা বলা হয়েছিল।
এ বাস্তবতায় আজ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’। জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ মনে করেন, ইউএইচসি অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ—নেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নেই প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআর, বির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, “চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মূলত দরিদ্র মানুষই। কিন্তু গত ৮–১০ বছরে তাদের সুরক্ষায় কোনো সরকার কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আলাদা তহবিল গড়ার উদ্যোগও দেখা যায়নি।”


























