চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার সাংবাদিকদের হুমকি
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪ ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার সাংবাদিকদের হুমকি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের হুমকি দেন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ হুসাইন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের ইসরায়েল মোড় সংলগ্ন এক বাসায় ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে নাচোল উপজেলা গোলাবাড়ি স্টেশন রেললাইন সংলগ্ন বসবাসকারী এক যুবকের সাথে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঐইদিন বেলা ১.৩০মিনিট সত্যতা অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় যে মেয়ের বাসায় বরযাত্রীগণ উপস্থিত এমতাবস্থায় হঠাৎ ১০/১৫ জন যুবক সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কয়েকজন স্বনামধন্য প্রথম শ্রেণির পত্রিকার সাংবাদিকদের উপর মারমুখী আচরণ করে যার নেতৃত্ব দেন ছাএলীগ নেতা মোহাম্মদ হুসাইন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেটে গড়ে ওঠা এ পথচলা আমার। আপনারা আমার সামনে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা বের করবেন না, নাহলে এদের থামাবো না বিয়েতে এসে ভুল করছেন ভদ্রলোকের মত হেঁসে পরিচিত মানুষের মত কথা বলে চলে যান। বিয়ের নেতৃত্বে আমার গ্রুপ রয়েছে। আর আমার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করিয়েন চেয়্যারম্যান মোখলেসের খাস লোক ছিলাম। জেমের মাডারের বিষয়গুলো নিয়েও মনে হয় নিউজ করেছেন।
তাহলে মোটামুটি আমার বিষয়েও শুনেছেন ভালোভাবেই চেয়্যারমেনের ভাতিজা বাক্কারের সাথে সারাদিন আড্ডা দেয়। বটতলা হাটে বাড়ি আমার এক নামেই যে কেও আমাকে সালাম দেয়। এখন ভদ্রভাবে দেরী না করে আত্নীয়সুলভ আচরণ করে চলে যা।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তাঁর এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, সে আওয়ামী রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতার ছএছায়ায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে ও মাদকের সাথে লিপ্ত হওয়ায় কেও তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। তার পিতৃপরিচয় পাওয়া না গেলেও লোকমুখে শোনা যায় সে সুমাইয়া ইসলাম সুরভী নামের এক নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা অফ ক্যামেরা জানান, মুহাম্মদ হুসাইন কোন নেতা নয় সে স্বঘোষিত ক্যাডার তার কোন পদ পদবী কোনসময়ই ছিলো না শুধুমাত্র নিজের বাহিনী নিয়ে প্রোগ্রামে টাকার বিনিময়ে চাটুয়া কর্মীদের যোগান দিতো আর নেতাদের অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো এই আর কি! )।
বিষয়টির নিয়ে প্রথমে কোন সাংবাদিক মুখ খুলতে না চাইলেও, এক সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান বলেন ছেলেটি সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্রুপ করছে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
প্রসাশনের বিষয়গুলো নিজে থেকে আমলে না আনলে পরবর্তীতে সাংবাদিক এমন হায়েনা ক্যাডারের ভয়ে সমাজের দর্পন নয় কাফনের কাজ করবে।
কারন দর্পন নির্ভয়ে প্রতিবিম্ব দেখায় অপরদিকে কাফনে ঢাকা থাকে মৃত মানুষ।সেইরূপ সাংবাদিকরা অবাধ বা নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশে বাঁধা পেলে মৃত মানুষের ন্যায় সত্যকে ভয়ে আড়াল করবে।যার ফলে সমাজের যে অস্থিতিশীলতা দেখা দিবে তা সামাল দিতে পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মতামত, এই ধরনের কীটগুলো স্বৈরাচারী সরকারের শাসন আমলে তৈরী করা হয়েছিলো।
কিন্তু ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও এসব দোসররা বর্তমানে উজ্জীবিত রয়েছে যার ফলশ্রুতিতে অন্যায় অবিচার গুম-খুন মাদক ও বাল্যবিবাহের মত ন্যাককারজনক ঘটনা প্রতিনিয়নত ঘটতেই আছে আর ঠিক এমন দোসরদের কারণেই বিগত সরকারের আমলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাল্যবিবাহে সারা বাংলাদেশে দ্বিতীয় অবস্থান যায়।
সমাজে নেতাদের আধিপত্য ও রাজত্ব কায়েমের জন্য এমন কুরুচিপূর্ণ ক্যাডাররা মাথা নাড়া দিলেও কিন্তু সঠিক সময় এখনই দেশের জনগনকে সচেতন হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে এদেরকে চিহ্নিত করে রূখে দাঁড়াতে হবে এদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম জাকারিয়াকে এই বিষয়ে অবগত করলে তিনি জানান, আমরা কোনধরনের লিখিত অভিযোগ ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি নয়। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























