ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকের আখড়া নয়-হরিকেশ হোক নিরাপদ আবাসভূমি, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচার করায় ৬ ব্যক্তির নামে সাধারণ ডায়রী করেছে এমপির এপিএস পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল অযৌক্তিক দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি নজরুল ও তার স্ত্রী আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ মৃত্যু সেরা চোরাচালান উদ্ধারকারী অফিসারের ক্রেস্ট পেলেন মাহমুদুল হাসান আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: ছেলের খোঁজে দিশেহারা বাবা দেশে হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৬ শিশুর

হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে রাণীশংকৈলের কামার পাড়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩ ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে রাণীশংকৈলের কামার পাড়ায়

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে রাণীশংকৈলের কামার পাড়ায়।

আর মাত্র তিন দিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলের কামারপট্টিতে বেড়েছে ব্যস্ততা।

অধিকাংশ দোকানের ভেতর থেকে ভেসে আসা হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।

রোজার ঈদের এক মাস পর থেকেই কামাররা কোরবানির জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। আগে ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও কোরবানির সময় ঘনিয়ে আসায় এখন টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

মাঝে শুধু খাওয়ার সময় পাওয়া যাচ্ছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদানুসারে সরবারহ স্বাভাবিক রাখতেই তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রম।

কামারপট্টিতে প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু জবাই ও গোশত কাটার বিভিন্ন আকারের দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কুড়াল। অনেকে আবার দোকানের সামনে বসে এসব সরঞ্জাম ধারালো করতে শান দেওয়ার কাজ করছেন।

দোকানের পাশ দিয়ে কেউ গেলেই ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কী লাগবে ? টুকটাক যেসব ক্রেতা আসছেন তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জাম দেখাচ্ছেন, দামাদামি করছেন। সবমিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কামার ও বিক্রেতারা।

সোমবার (২৬ জুন) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালায় দেখা যায়, কারিগররা উত্তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে নির্দিষ্ট রূপ ‍দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় পর ঠান্ডা করে ধারালো করছেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় এই উপজেলার কামাররা।

সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় কামারদের কর্মব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ।

ক্রেতারা বলেন “আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ঈদ। গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে দা,বটি, চাকু ও ছুরির প্রয়োজন। এজন্য বাজারে দা, বটি ও ছুরি কিনতে এসেছি । তবে গতবছরের চেয়ে এবার দাম খানিকটা বেশি।”

লোহার তৈরী জিনিপত্র পাইকারী বিক্রেতারা বলেন, “সারাবছরই তারা দা, বটি, চাকু, ছুরি বিক্রি করি। তবে কোরবানির মৌসুমেই এসব সরঞ্জামের কেনা-বেচার ধুম পড়ে।

এবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামারদের কাছ থেকে বেশি দামে এসব জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। যার ফলে কিছুটা বেশি দামে আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাণীশংকৈল পৌর শহরের হাটখোলা এলাকার কামার মো. বাবুল হোসেন বলেন, বাপ-চাচার ঐতিহ্য সূত্রে অনেক বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায় প্রতিবছর।

কামাররা জানায়, দা আকৃতি ও লোহাভেদে ২০০- ৫০০ টাকা, ছুরি ১০০-৪০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ৫০-৫০০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৫০০-৮০০ টাকা এবং পুরানো দা, বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবণ-পানি দিতে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে রাণীশংকৈলের কামার পাড়ায়

আপডেট সময় : ০১:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০২৩

হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে ব্যস্ততা বেড়েছে রাণীশংকৈলের কামার পাড়ায়।

আর মাত্র তিন দিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলের কামারপট্টিতে বেড়েছে ব্যস্ততা।

অধিকাংশ দোকানের ভেতর থেকে ভেসে আসা হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।

রোজার ঈদের এক মাস পর থেকেই কামাররা কোরবানির জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। আগে ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও কোরবানির সময় ঘনিয়ে আসায় এখন টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

মাঝে শুধু খাওয়ার সময় পাওয়া যাচ্ছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদানুসারে সরবারহ স্বাভাবিক রাখতেই তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রম।

কামারপট্টিতে প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু জবাই ও গোশত কাটার বিভিন্ন আকারের দা, বটি, ছুরি, চাপাতি, কুড়াল। অনেকে আবার দোকানের সামনে বসে এসব সরঞ্জাম ধারালো করতে শান দেওয়ার কাজ করছেন।

দোকানের পাশ দিয়ে কেউ গেলেই ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কী লাগবে ? টুকটাক যেসব ক্রেতা আসছেন তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জাম দেখাচ্ছেন, দামাদামি করছেন। সবমিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কামার ও বিক্রেতারা।

সোমবার (২৬ জুন) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কামারশালায় দেখা যায়, কারিগররা উত্তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে নির্দিষ্ট রূপ ‍দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় পর ঠান্ডা করে ধারালো করছেন।

প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানায় এই উপজেলার কামাররা।

সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় কামারদের কর্মব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ।

ক্রেতারা বলেন “আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ঈদ। গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে দা,বটি, চাকু ও ছুরির প্রয়োজন। এজন্য বাজারে দা, বটি ও ছুরি কিনতে এসেছি । তবে গতবছরের চেয়ে এবার দাম খানিকটা বেশি।”

লোহার তৈরী জিনিপত্র পাইকারী বিক্রেতারা বলেন, “সারাবছরই তারা দা, বটি, চাকু, ছুরি বিক্রি করি। তবে কোরবানির মৌসুমেই এসব সরঞ্জামের কেনা-বেচার ধুম পড়ে।

এবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামারদের কাছ থেকে বেশি দামে এসব জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে। যার ফলে কিছুটা বেশি দামে আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাণীশংকৈল পৌর শহরের হাটখোলা এলাকার কামার মো. বাবুল হোসেন বলেন, বাপ-চাচার ঐতিহ্য সূত্রে অনেক বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায় প্রতিবছর।

কামাররা জানায়, দা আকৃতি ও লোহাভেদে ২০০- ৫০০ টাকা, ছুরি ১০০-৪০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ৫০-৫০০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৫০০-৮০০ টাকা এবং পুরানো দা, বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবণ-পানি দিতে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

 

 

Facebook Comments Box