ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায় বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে ভারতের স্বর্ণপদক জয় এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সত্য বলার আহ্বান জানালো দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

কাউনিয়ার মরা তিস্তার নড়বড়ে সাঁকোটি ১৪টি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩ ৪৩১ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ার মরা তিস্তার নড়বড়ে সাঁকোটি ১৪টি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের কাউনিয়ার মরা তিস্তার নড়বড়ে সাঁকোটি ১৪টি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর সভার বাংলাবাজার গোল্ডেনের ঘাটে মরা তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে এ জনপদের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।

চরচতুরা গ্রামের বাসিন্দা ছাবেদ আলী। আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, মরা তিস্তা নদীর উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাঁটি হাঁটি যাবার সময় ভয়ে মোর বুকটা ধরপর ধরপর করে। এই বুঝি মাথা ঘুরি পানিত পড়ি মরি যাও।

সে আরো বলেন মেলাদিন থাকি খালি শোন গোল্ডেনের ঘাটত একটা বড়সড় ব্রীজ হইবে। কিন্ত ব্রীজ তৈয়ার করার কোন আলামত দেখোনা। হামরা মরি গেইলে কী এটে কোনা ব্রীজ হইবে।

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর সভার বাংলাবাজার গোল্ডেনের ঘাটে মরা তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে এ জনপদের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই বাঁশের সাঁকোটিও এখন নরবড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে । বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করতে করছে দুই পারের হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , হারাগাছ গোল্ডেনের ঘাট মরা তিস্তা নদীর উপর স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করে বাঁশের সাঁকোটি। কিন্তু দুই বছর আগে সেই সেতুটিও ভেঙ্গে যায়।

এতে বিচ্ছিন্ন হয় কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজন টাকা তুলে আবারো বাঁশ দিয়ে তৈরি করেন প্রায় দেড়শ মিটার বাঁশের সাঁকো।

হাজারো মানুষের চলাচলের ফলে সেই সাঁকোটি নরবড়ে হয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নরবড়ে আর ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়ে চলাচল করছেন সাঁকোর দুই ধারের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে একটি পাকা সেতুর দাবি তুললেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়ে নানা সময় প্রতিশ্রুতি পেলেও আলোর মুখ দেখিনি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। এতে যেকোনো সময় বাঁশের সাঁকো টি ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, হরিণচড়া, বাশদেও, মিলন বাজার,প্রেমের বাজার, কিশামত চিনা তুলি, পাগলার হাট এবং কাউনিয়া উপজেলার চর নাজিরদহ, চর পল্লীমারী, হারাগাছ পৌরসভার টাংরিরবাজার, চরচতুরা, হকবাজার, ধুমগাড়া পাকার মাথা এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বাংলা বাজার গোল্ডেনের ঘাট বাশেঁর সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। মরা তিস্তা নদীর দুই ধারের মানুষের সেতু বন্ধনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এ বাঁশের সাঁকোটি।

এছাড়া স্কুল ও কলেজগামী হাজারো শিক্ষার্থী এবং দুই পাশের সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন এই সাঁকো দিয়ে। হারাগাছ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে আমরা একটা পাকা সেতুর দাবি করে আসছি। কিন্তু নানা সময়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। এতোদিন ধরে ব্রীজ করে দিবে বলে কাউন্সিলর মেয়র ভোট নেয় আর ভোট শেষ হইলে আর খোঁজ নেয় না।

এ ব্যাপারে হারাগাছ পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মর্তুজা এলাহী বলেন, মরা তিস্তায় গোল্ডেনের ঘাটে একটি পাকা সেতুর জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত ও বরাদ্দের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রেরণ করেছি। ইতোমধ্যে সার্ভে এবং মাটি পরীক্ষাও করা হয়েছে। আশা করছি বরাদ্দ আসলে এই অর্থ বছরেই সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ার মরা তিস্তার নড়বড়ে সাঁকোটি ১৪টি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

রংপুরের কাউনিয়ার মরা তিস্তার নড়বড়ে সাঁকোটি ১৪টি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর সভার বাংলাবাজার গোল্ডেনের ঘাটে মরা তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে এ জনপদের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা।

চরচতুরা গ্রামের বাসিন্দা ছাবেদ আলী। আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, মরা তিস্তা নদীর উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাঁটি হাঁটি যাবার সময় ভয়ে মোর বুকটা ধরপর ধরপর করে। এই বুঝি মাথা ঘুরি পানিত পড়ি মরি যাও।

সে আরো বলেন মেলাদিন থাকি খালি শোন গোল্ডেনের ঘাটত একটা বড়সড় ব্রীজ হইবে। কিন্ত ব্রীজ তৈয়ার করার কোন আলামত দেখোনা। হামরা মরি গেইলে কী এটে কোনা ব্রীজ হইবে।

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর সভার বাংলাবাজার গোল্ডেনের ঘাটে মরা তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে এ জনপদের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই বাঁশের সাঁকোটিও এখন নরবড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে । বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করতে করছে দুই পারের হাজারো মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , হারাগাছ গোল্ডেনের ঘাট মরা তিস্তা নদীর উপর স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করে বাঁশের সাঁকোটি। কিন্তু দুই বছর আগে সেই সেতুটিও ভেঙ্গে যায়।

এতে বিচ্ছিন্ন হয় কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজন টাকা তুলে আবারো বাঁশ দিয়ে তৈরি করেন প্রায় দেড়শ মিটার বাঁশের সাঁকো।

হাজারো মানুষের চলাচলের ফলে সেই সাঁকোটি নরবড়ে হয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নরবড়ে আর ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় হয়ে চলাচল করছেন সাঁকোর দুই ধারের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে একটি পাকা সেতুর দাবি তুললেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়ে নানা সময় প্রতিশ্রুতি পেলেও আলোর মুখ দেখিনি সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। এতে যেকোনো সময় বাঁশের সাঁকো টি ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আশঙ্কা করছেন পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, হরিণচড়া, বাশদেও, মিলন বাজার,প্রেমের বাজার, কিশামত চিনা তুলি, পাগলার হাট এবং কাউনিয়া উপজেলার চর নাজিরদহ, চর পল্লীমারী, হারাগাছ পৌরসভার টাংরিরবাজার, চরচতুরা, হকবাজার, ধুমগাড়া পাকার মাথা এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বাংলা বাজার গোল্ডেনের ঘাট বাশেঁর সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। মরা তিস্তা নদীর দুই ধারের মানুষের সেতু বন্ধনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এ বাঁশের সাঁকোটি।

এছাড়া স্কুল ও কলেজগামী হাজারো শিক্ষার্থী এবং দুই পাশের সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন এই সাঁকো দিয়ে। হারাগাছ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে আমরা একটা পাকা সেতুর দাবি করে আসছি। কিন্তু নানা সময়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। এতোদিন ধরে ব্রীজ করে দিবে বলে কাউন্সিলর মেয়র ভোট নেয় আর ভোট শেষ হইলে আর খোঁজ নেয় না।

এ ব্যাপারে হারাগাছ পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মর্তুজা এলাহী বলেন, মরা তিস্তায় গোল্ডেনের ঘাটে একটি পাকা সেতুর জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত ও বরাদ্দের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রেরণ করেছি। ইতোমধ্যে সার্ভে এবং মাটি পরীক্ষাও করা হয়েছে। আশা করছি বরাদ্দ আসলে এই অর্থ বছরেই সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

 

Facebook Comments Box