শিবগঞ্জে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে হত্যার অভিযোগ করেছেন স্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩২৬ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী।
বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর আব্দুল মোমিন (৩০) নামে ফায়ার সার্ভিসের এর কর্মীকে হত্যার পর শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন ওই ফায়ার কর্মীর স্ত্রী।শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাহানা আক্তার।
আজ ২১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল অনুমান সাড়ে ১১ টায় আব্দুল মোমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত আব্দুল মোমিন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক এর ছেলে।
মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আশিক ইকবাল বলেছেন, আব্দুল মোমিন এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্দুল মোমিন এর স্ত্রী সাহানা আক্তার জানান, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মোমিন।
এতে বাঁধ সাধে মোমিন এর বড় ভাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মহিউদ্দীন মিজান ও পিতা মোজাম্মেল হক। এরকিছুদিন পর মাকে হত্যার অভিযোগ এনে বড় ভাই মহীউদ্দিন মিজানসহ কয়েকজনকে আসামী করে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন আব্দুল মোমিন।
আব্দুল মোমিন সাহানাকে নিয়ে বগুড়া শহরের ভাড়া বাসায় থাকতেন। আব্দুল মোমিনকে সাহানার কাছ থেকে সরে নিতে মোমিনের পিতা মোজাম্মেল হক বাড়ি চুরির মামলা দিয়ে আব্দুল মোমিনকে গ্রেফতার করান।
পরে জামিন হলে মোমিনকে কৌশলে চিকিৎসার নামে বিভিন্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আটকিয়ে রেখে নানাভাবে নির্যাতন করা হয় আব্দুল মোমিনকে।
কয়েকমাস সাহানার নিকট থেকে দূরে রাখা হয় মোমিনকে। এরই মধ্যে মোমিনের ঔরশজাত একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সাহানা। হন্যে হয়ে মোমিনকে খুঁজতে থাকেন তিনি।
আব্দুল মোমিনের করা ফোনে সাহানা জানতে পারেন, তারা আব্দুল মোমিনকে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের মেসে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে সাহানা তাঁর স্বামীকে নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য ১৮ তারিখ শনিবার জয়পুরহাট পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ ও র্যাবের চেষ্টায় আব্দুল মোমিনকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
সাহানা আরো জানান, উদ্ধারের পর মোমিন সংবাদ কর্মীদের জানান, দীর্ঘদিন তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় শিকল পরিয়ে আটকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার ভাই ও পিতা তাঁকে হত্যা করে ফেলবে। তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট নিরাপদ, সেখানে তিনি যেতে চান। কিন্তু প্রশাসন আব্দুল মোমিনকে তাঁর পিতার জিম্মায় দেন।
এরপর আজ ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে পুলিশ আব্দুল মোমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
সাহানা আক্তার সাংবাদিকদের বলেছেন, মোমিন নিজে মরতে পারেনা। বিভিন্ন কারণে মোমিনকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























