শখের বসে পালন হচ্ছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ
- আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৩৯০০৯ বার পড়া হয়েছে
শখের বসে পালন হচ্ছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, স্নেকসহ আফ্রিকান ব্যাঙ
শখের বসে দেশে পালন করা হচ্ছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙ।
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়শা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গ্যাকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতি।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এসব বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো দেশের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ণ স্নেকসহ নানা প্রজাতির প্রাণী জব্দ; বিশেষজ্ঞদের দাবি, শৌখিন পালন ও পাচারই অবৈধ আমদানির প্রধান কারণ
অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো একটি আবাসিক ভবনের ছাদে তৈরি করা অ্যাকুরিয়ামে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেখানে প্রায় ছয় হাজার বিদেশি প্রাণী ছিল। অর্থাৎ অভিযানের আগেই প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, দেশে বিদেশি প্রাণী শখের বসে পালনের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙও এখন অনেকে লালন-পালন করছেন।
তিনি বলেন, অনুমতি নিয়ে বৈধভাবে আনা প্রাণীর আড়ালে অনেকেই অবৈধ প্রাণী দেশে প্রবেশ করাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রাণী চোরাইপথে ভারতে পাচার করা হচ্ছে।
আদনান আজাদের মতে, বিমানবন্দরে সোনা বা অন্যান্য পণ্যের তুলনায় পোষা প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বিমানবন্দরে পৃথক ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট স্থাপনেরও দাবি জানান।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক বলেন, বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয় এবং অ্যাকুরিয়াম মাছ বা অর্কিডের চালানের আড়ালে আনা অবৈধ প্রাণীও জব্দ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি প্রাণী দেশের পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন কোনো রোগ ছড়াবে কিনা, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই দেশে প্রবেশ করছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বিদেশি বন্যপ্রাণী আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কোয়ারেন্টাইন নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশেও অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রাণীর অবৈধ আমদানি ও বাণিজ্য বন্ধে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

























