ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুর কর অঞ্চলে ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত

রাণীশংকৈলের ৭১’র বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই: রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবীর
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১৭০৭০ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলের ৭১'র বীরাঙ্গনা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান; ইনসেটে টেপরী রাণী।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রাণীশংকৈলের ৭১’র বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই: রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা টাওয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই।

গত সোমবার (১২ মে) রাতে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানা যায়, টেপরী রাণী ছিলেন বলিদ্বারা গ্রামের মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

 

 

 

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ চলাকালে রাণীশংকৈল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর অভিযানের সময় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া এই নারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব আত্মত্যাগের প্রতীক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সমাজের অবহেলা ও কষ্ট বয়ে বেড়ালেও তিনি মাথা নত করেননি।

 

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াতের আমির আলহাজ আনোয়ার হোসেন আর নেই

 

তাঁর ছেলে সুধীর রায় (৫০) একজন যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত টেপরী রাণী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বেদনা বয়ে নিয়ে গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় তাঁর নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডি আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পড়ুন>> দিরাইয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ১ এবং আহত ৩০

 

 

বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “জাতির শ্রেষ্ঠ এই সাহসী নারী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।

 

 

”স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হলেও টেপরী রাণী ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সংগ্রামী একজন নারী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীশংকৈলের ৭১’র বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই: রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৫:২১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

 

রাণীশংকৈলের ৭১’র বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই: রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে, শেষকৃত্য সম্পন্ন

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা টাওয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই।

গত সোমবার (১২ মে) রাতে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানা যায়, টেপরী রাণী ছিলেন বলিদ্বারা গ্রামের মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

 

 

 

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ চলাকালে রাণীশংকৈল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর অভিযানের সময় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া এই নারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব আত্মত্যাগের প্রতীক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সমাজের অবহেলা ও কষ্ট বয়ে বেড়ালেও তিনি মাথা নত করেননি।

 

পড়ুন>> ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াতের আমির আলহাজ আনোয়ার হোসেন আর নেই

 

তাঁর ছেলে সুধীর রায় (৫০) একজন যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত টেপরী রাণী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বেদনা বয়ে নিয়ে গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় তাঁর নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডি আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পড়ুন>> দিরাইয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ১ এবং আহত ৩০

 

 

বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “জাতির শ্রেষ্ঠ এই সাহসী নারী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।

 

 

”স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হলেও টেপরী রাণী ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সংগ্রামী একজন নারী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

 

 

 

Facebook Comments Box