ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলপিজির দাম ও কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি জামায়াত এমপি |: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা মিললেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম নিচ্ছেন সাধারণ রোগীরা উখিয়ায় নলকূপ খননে বের হওয়া আগুনের দাপট অব্যাহত, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার ব্যাটিং ধসে ২৭২ রানেই থামল বাংলাদেশ গোলকিপারের নৈপুণ্যে কারাবাও কাপের শেষ আটে ম্যান সিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেবে সরকার

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য

সৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য

 

 

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে রয়েছে তেঁতুলিয়া। এখান থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা মনোরম দৃশ‍্য দেখতে পাওয়া খুবই অবাক হবার মতই।

বছরের একটি বিশেষ সময়েই শুধুমাত্র বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় খুব ভালো ভাবে। তাই বছরের এই সময়টিতে সকলেই ভিড় করেন পঞ্চগড়ে, বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলাতে।

কখন দেখা যায় তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা?

সারা বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আকাশ মেঘহীন থাকলে দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাওয়া যায়। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে উপরোক্ত সময়ের ভিতর যেতে হবে এবং ঐ সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।

তবে অনেকসময় উপযুক্ত সময়ে গেলেও ভাগ্য খারাপ থাকলে কাঞ্চনজঙ্গার দেখা পাওয়া যায় না। দেখা গেলো আপনি গেলেন, কিন্তু সেইসময় কুয়াশা বা আকাশে মেঘের দেখা দিলো, তখন আর দেখতে পেলেন না। আবার কাঞ্চনজঙ্গা ভোরের আলো ফোটার পর থেকে সকালের কিছু সময় ভালো দেখা যায়। তাই দেখতে হলে আপনার উপযুক্ত সময়ে যেমন যেতে হবে তেমনি ভাগ্যও সহায়ক হতে হবে। আসার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে আসবেন। নয়তো কষ্ট করে অনেক দূর থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হবে।

আপনার উদ্দেশ্য যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার হয় অন্তত দুই দিনের প্ল্যানে যাবেন, যেন একদিন দেখতে না পেলেও অন্যদিন দেখতে পাবার সুযোগ তৈরি হয়।

কোথা থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা:

আকাশ ভালো থাকলে পঞ্চগড়ের প্রায় সব ফাঁকা জায়গা হতেই কাঞ্চনজংঘা দেখা যায়। এমকি মাঝে মাঝে ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে কাঞ্চনজংঘা দেখার সবচেয়ে ভালো স্থান তেঁতুলিয়া। সবচেয়ে ভালো দেখতে হলে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, শালবাহান, মাঝিপাড়া, রণচন্ডী, বেরং ব্রীজ এই জায়গা গুলোতে অবস্থান নিতে পারেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে কুচবিহারের রাজা কর্তৃক নির্মিত ভিক্টোরিয়ান ধাঁচে বানানো একটি ঐতিহাসিক ডাকবাংলো রয়েছে। মহানন্দা নদীর তীরে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা ডাকবাংলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সবচেয়ে সুন্দর ভাবে। তাই সবারই পছন্দ এই জায়গাটিই।

কিভাবে যাবেন তেঁতুলিয়া/পঞ্চগড়?

ঢাকা থেকে সরাসরি তেঁতুলিয়া যেতে চাইলে হানিফ অথবা বুড়িমারী এক্সপ্রেস বাসে যাওয়া যাবে। এসি/নন এসি এসব বাসে যেতে পারবেন। এছাড়া দেশের সব জেলা শহর থেকেপঞ্চগড় হয়ে তেঁতুলিয়া যেতে পারবেন।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন।

পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় পথে সারাদিন নিয়মিত বিরতিতে লোকাল বাস চলাচল করে। ঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার জন্য প্রাইভেট কার ও মাইক্রো ভাড়া করেই যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?

তেতুলিয়ায় কাজী ব্রাদার্স হোটেল ও সীমান্তের পাড় নামে দুইটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে নন

মহানন্দা নদী তীরের ডাকবাংলোতে থাকতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগের রেস্টহাউস এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষ্যে থাকতে পারবেন।

এছাড়া পঞ্চগড়ের সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া করতে পারবেন।

পঞ্চগড়ে দেখার মত কি কি আছে?

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে অনেককেই হতাশ হতে হয়। শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় পঞ্চগড় না গিয়ে পঞ্চগড় সহ আশেপাশের জায়গা ঘুরে দেখা সহ প্ল্যান করুন। হেমন্তের এই সময় উত্তরবঙ্গ এর আলাদা এক সৌন্দর্য আছে যা আপনাকে বিমোহিত করবে। উত্তরের হিমালয় থেকে ভেসে আসা হালকা হিম বাতাসে দেহ প্রাণ জুড়াবে।

এখানে পঞ্চগড়ের কিছু প্রধান দর্শনীয় স্থানের তালিকা দেওয়া হলো:

কাঞ্চনজঙ্ঘা:

শীতকালে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা যায়।

পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:

তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত এটি ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:

রকস মিউজিয়াম:

দেশের একমাত্র রক যাদুঘর। যা পাথরের জাদুঘর নামেও পরিচিত, এটি একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান।

রকস মিউজিয়াম:
রকস মিউজিয়াম

ভিতরগড় দুর্গনগরী:

এটি প্রাচীন পুন্ডু নগর রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং পঞ্চগড়ের পাঁচটি দুর্গের মধ্যে একটি।

গোলকধাম মন্দির:

দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থান।

বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির:

করতোয়া নদীর তীরে বোদা উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি খুবই সুন্দর।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ:

আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদটি তার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত।

চা বাগান:

পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগান
পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগান

পঞ্চগড়ের কিছু অংশে সুন্দর চা বাগান রয়েছে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো:

তেঁতুলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত একটি ডাক বাংলো যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

করতোয়া নদী:

পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটিও একটি সুন্দর প্রাকৃতিক আকর্ষণ।

 

যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য

আপডেট সময় : ১০:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

 

 

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য

 

 

দেখে আসুন তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুতপূর্ব দৃশ‍্য।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে রয়েছে তেঁতুলিয়া। এখান থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বাংলাদেশ থেকে এত দূরের পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা মনোরম দৃশ‍্য দেখতে পাওয়া খুবই অবাক হবার মতই।

বছরের একটি বিশেষ সময়েই শুধুমাত্র বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় খুব ভালো ভাবে। তাই বছরের এই সময়টিতে সকলেই ভিড় করেন পঞ্চগড়ে, বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলাতে।

কখন দেখা যায় তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা?

সারা বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আকাশ মেঘহীন থাকলে দূরে বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়ের চূড়া দেখতে পাওয়া যায়। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেতে চাইলে আপনাকে উপরোক্ত সময়ের ভিতর যেতে হবে এবং ঐ সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।

তবে অনেকসময় উপযুক্ত সময়ে গেলেও ভাগ্য খারাপ থাকলে কাঞ্চনজঙ্গার দেখা পাওয়া যায় না। দেখা গেলো আপনি গেলেন, কিন্তু সেইসময় কুয়াশা বা আকাশে মেঘের দেখা দিলো, তখন আর দেখতে পেলেন না। আবার কাঞ্চনজঙ্গা ভোরের আলো ফোটার পর থেকে সকালের কিছু সময় ভালো দেখা যায়। তাই দেখতে হলে আপনার উপযুক্ত সময়ে যেমন যেতে হবে তেমনি ভাগ্যও সহায়ক হতে হবে। আসার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে আসবেন। নয়তো কষ্ট করে অনেক দূর থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হবে।

আপনার উদ্দেশ্য যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার হয় অন্তত দুই দিনের প্ল্যানে যাবেন, যেন একদিন দেখতে না পেলেও অন্যদিন দেখতে পাবার সুযোগ তৈরি হয়।

কোথা থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা:

আকাশ ভালো থাকলে পঞ্চগড়ের প্রায় সব ফাঁকা জায়গা হতেই কাঞ্চনজংঘা দেখা যায়। এমকি মাঝে মাঝে ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে কাঞ্চনজংঘা দেখার সবচেয়ে ভালো স্থান তেঁতুলিয়া। সবচেয়ে ভালো দেখতে হলে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, শালবাহান, মাঝিপাড়া, রণচন্ডী, বেরং ব্রীজ এই জায়গা গুলোতে অবস্থান নিতে পারেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে কুচবিহারের রাজা কর্তৃক নির্মিত ভিক্টোরিয়ান ধাঁচে বানানো একটি ঐতিহাসিক ডাকবাংলো রয়েছে। মহানন্দা নদীর তীরে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা ডাকবাংলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় সবচেয়ে সুন্দর ভাবে। তাই সবারই পছন্দ এই জায়গাটিই।

কিভাবে যাবেন তেঁতুলিয়া/পঞ্চগড়?

ঢাকা থেকে সরাসরি তেঁতুলিয়া যেতে চাইলে হানিফ অথবা বুড়িমারী এক্সপ্রেস বাসে যাওয়া যাবে। এসি/নন এসি এসব বাসে যেতে পারবেন। এছাড়া দেশের সব জেলা শহর থেকেপঞ্চগড় হয়ে তেঁতুলিয়া যেতে পারবেন।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন।

পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ায় পথে সারাদিন নিয়মিত বিরতিতে লোকাল বাস চলাচল করে। ঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাসস্টেশন এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার জন্য প্রাইভেট কার ও মাইক্রো ভাড়া করেই যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন?

তেতুলিয়ায় কাজী ব্রাদার্স হোটেল ও সীমান্তের পাড় নামে দুইটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে নন

মহানন্দা নদী তীরের ডাকবাংলোতে থাকতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগের রেস্টহাউস এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষ্যে থাকতে পারবেন।

এছাড়া পঞ্চগড়ের সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া করতে পারবেন।

পঞ্চগড়ে দেখার মত কি কি আছে?

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে অনেককেই হতাশ হতে হয়। শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় পঞ্চগড় না গিয়ে পঞ্চগড় সহ আশেপাশের জায়গা ঘুরে দেখা সহ প্ল্যান করুন। হেমন্তের এই সময় উত্তরবঙ্গ এর আলাদা এক সৌন্দর্য আছে যা আপনাকে বিমোহিত করবে। উত্তরের হিমালয় থেকে ভেসে আসা হালকা হিম বাতাসে দেহ প্রাণ জুড়াবে।

এখানে পঞ্চগড়ের কিছু প্রধান দর্শনীয় স্থানের তালিকা দেওয়া হলো:

কাঞ্চনজঙ্ঘা:

শীতকালে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত দেখা যায়।

পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।
পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার (যার উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট) সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:

তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত এটি ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট:

রকস মিউজিয়াম:

দেশের একমাত্র রক যাদুঘর। যা পাথরের জাদুঘর নামেও পরিচিত, এটি একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান।

রকস মিউজিয়াম:
রকস মিউজিয়াম

ভিতরগড় দুর্গনগরী:

এটি প্রাচীন পুন্ডু নগর রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং পঞ্চগড়ের পাঁচটি দুর্গের মধ্যে একটি।

গোলকধাম মন্দির:

দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি একটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থান।

বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির:

করতোয়া নদীর তীরে বোদা উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি খুবই সুন্দর।

মির্জাপুর শাহী মসজিদ:

আটোয়ারী উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদটি তার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত।

চা বাগান:

পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগান
পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগান

পঞ্চগড়ের কিছু অংশে সুন্দর চা বাগান রয়েছে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো:

তেঁতুলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত একটি ডাক বাংলো যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

করতোয়া নদী:

পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটিও একটি সুন্দর প্রাকৃতিক আকর্ষণ।

 

যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

 

Facebook Comments Box