জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে জার্মানিতে জেন-জির বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১০:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার ধারাবাহিকতায় এবার জার্মানিতেও পৌঁছেছে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের ঢেউ। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছেন দেশটির জেন-জি তরুণেরা। শনিবার আয়োজিত এসব বিক্ষোভ ও সমাবেশে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠকেরা।
চলতি বছর ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃশ্যপটে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটে। অন্যদিকে ফ্রান্সে জেন-জি বিক্ষোভের একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া যায়।
জার্মানিতে আন্দোলন পরিচালনা করছে ‘জেন-জেড রেগেল্ট’ (জেন-জি নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে) নামের একটি সংগঠন। বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট ও মিউনিখসহ দেশের ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির সমন্বয় করা হচ্ছে। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ রোধ করা, শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে তরুণদের রক্ষা করা। আয়োজকদের মতে, লাগামহীন খরচের কারণে তরুণ সমাজ এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।
হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত এ বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসন মনে করছে বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ থাকবে, তবে কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী পরিস্থিতি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী ও বিদেশি কয়েকটি চরমপন্থি চক্র এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে জনসমর্থন টানার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে।
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক বলেন, ‘সেখানে লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা আমরা দেখেছি। ফ্রান্সের সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না।’ অন্যদিকে বার্লিনের বাণিজ্যিক এলাকা কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ভাঙচুর থেকে রক্ষায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের জানলা-দরজা আগাম সুরক্ষিত করছেন এবং অনেকে দ্রুত দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’। এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই দোকানের জানালা-দরজা সুরক্ষিত করেছে।
তরুণ আন্দোলনকারীদের একাংশের মতে, ইউরোপের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হলেও জার্মানিতে তরুণদের ওপর যে অর্থনৈতিক বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে। মিউনিখের সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়া ১৮ বছর বয়সি তরুণ স্টিভ সরাসরি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক উদ্বেগের প্রতি সরকার কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। উল্টো ব্যয় সংকোচনের নামে আমাদের কাঁধে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী সমাবেশের অধিকার ব্যবহার করে যাব।’
জার্মানির বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বেবি বুমার প্রজন্মের নাগরিকেরা দলে দলে অবসরে যাওয়ায় এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসায় সামাজিক পেনশন ও সেবামূলক খাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যা সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে আন্দোলনের প্রকৃতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় এটি পুরোপুরি সাধারণ তরুণদের কি না তা নিয়ে তর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংগঠন ‘বিএসকে’ এ কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে এবং তারা আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

























