ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায় বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে ভারতের স্বর্ণপদক জয় এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সত্য বলার আহ্বান জানালো দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলের বাংলামোটরে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী আহত

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারানো সাতজনের মরদেহ জামালপুরে পৌঁছানোর পর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতে ও শনিবার সকালে পৃথকভাবে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। একই পরিবারের চারজনকে হারানোর ঘটনায় গোটা গ্রাম যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেকেই শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও শোকের ভার কাটেনি পরিবারগুলোর।

নিহতদের মধ্যে রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন—মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রশিদা বেগম (৮৫), লেবুর মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিলান। মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও রশিদা বেগমের জানাজা নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে মর্জিনা বেগম ও শিশু মিলানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রানাগাছা ইউনিয়নের ঘোড়ার কান্দা গ্রামে মর্জিনার শ্বশুরবাড়িতে। সবশেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্তান, মা, মেয়ে ও নাতির একসঙ্গে চলে যাওয়ার শোক মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

একই দুর্ঘটনায় নিহত রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দি গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক সুজন মিয়ার মরদেহ রাতেই বাড়িতে পৌঁছে। বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)-এর মরদেহও শুক্রবার রাতে বাড়িতে পৌঁছায়। বাদেচাঁন্দি সামাজিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী মমতা বেগম ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় এক মাস আগে তারা বাড়িতে এসেছিলেন এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের রেখে যাওয়া দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ের গন্দ্রপা এলাকায় ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অটোরিকশার ওই সাত যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে মরদেহগুলো মর্গে পাঠিয়েছিল।

জানাজায় অংশ নেওয়া শত শত মানুষ সড়কের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই মহাসড়কে বারবার প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা রাজিব পরিবহনের বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং সড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের লাইসেন্স যাচাই, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

নিহতদের দাফন ও জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানান এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও মৃত্যুর মিছিল থামানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায়

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারানো সাতজনের মরদেহ জামালপুরে পৌঁছানোর পর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতে ও শনিবার সকালে পৃথকভাবে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। একই পরিবারের চারজনকে হারানোর ঘটনায় গোটা গ্রাম যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেকেই শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও শোকের ভার কাটেনি পরিবারগুলোর।

নিহতদের মধ্যে রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন—মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রশিদা বেগম (৮৫), লেবুর মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিলান। মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও রশিদা বেগমের জানাজা নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে মর্জিনা বেগম ও শিশু মিলানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রানাগাছা ইউনিয়নের ঘোড়ার কান্দা গ্রামে মর্জিনার শ্বশুরবাড়িতে। সবশেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সন্তান, মা, মেয়ে ও নাতির একসঙ্গে চলে যাওয়ার শোক মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

একই দুর্ঘটনায় নিহত রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দি গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক সুজন মিয়ার মরদেহ রাতেই বাড়িতে পৌঁছে। বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)-এর মরদেহও শুক্রবার রাতে বাড়িতে পৌঁছায়। বাদেচাঁন্দি সামাজিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী মমতা বেগম ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় এক মাস আগে তারা বাড়িতে এসেছিলেন এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের রেখে যাওয়া দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ের গন্দ্রপা এলাকায় ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অটোরিকশার ওই সাত যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে মরদেহগুলো মর্গে পাঠিয়েছিল।

জানাজায় অংশ নেওয়া শত শত মানুষ সড়কের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই মহাসড়কে বারবার প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা রাজিব পরিবহনের বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং সড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের লাইসেন্স যাচাই, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।

নিহতদের দাফন ও জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানান এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও মৃত্যুর মিছিল থামানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Facebook Comments Box