ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায় বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসে ভারতের স্বর্ণপদক জয় এশিয়ান গেমস থেকে পদকহীন ফেরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে সত্য বলার আহ্বান জানালো দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণকারী

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ সকল খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় আস্থা যোগাবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আঞ্চলিক সমৃদ্ধি অর্জনে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন তিনি। একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও সেবার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ করছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও রেফারেল সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে। তিনি বলেন, ‘সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।’।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার উপায় হতে হবে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।

কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষা

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষি অর্থায়ন সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও সম্প্রীতিকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে অভিহিত করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিকাশের আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।

সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণকারী

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ সকল খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় আস্থা যোগাবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আঞ্চলিক সমৃদ্ধি অর্জনে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন তিনি। একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও সেবার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ করছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও রেফারেল সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে। তিনি বলেন, ‘সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।’।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করার উপায় হতে হবে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।

কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষা

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষি অর্থায়ন সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও সম্প্রীতিকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে অভিহিত করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিকাশের আহ্বান জানান।

Facebook Comments Box