নিখোঁজ প্রাক্তন কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, মুখ খুললেন বাবা
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তারা এখনো অন্ধকারে আছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাসায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলেন কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। ছেলের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, তা জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা বা কে তাহসিফকে হত্যা করেছে, এটা আমরা জানি না।’।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাহসিফ মাঝেমধ্যে বেশ আশঙ্কার কথা বাবা-মাকে বলতেন। তবে কী বা কাদের নিয়ে তিনি ভীত ছিলেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য তার পরিবারকে জানাননি। তাকে কেউ হুমকি দিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবা জানান, তেমন কোনো কথা তাহসিফ তাদের কখনো বলেননি। তবে মাঝেমধ্যে তার কথাবার্তায় উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট ছিল। ছেলেকে কেউ হুমকি দিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি-ধমকির কথা তাহসিফ তাঁদের জানায়নি।
তাহসিফের পেশাগত জীবনের বিষয়ে বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজ এবং সবশেষে ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন। অত্যন্ত নম্র ও সামাজিক স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত তাহসিফ কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন।
নিখোঁজের রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাবা বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত তাহসিফ তার মায়ের সাথেই সময় কাটিয়েছেন, কেনাকাটা করেছেন। সন্ধ্যার দিকে এক জুনিয়র বন্ধু ‘দ্বীপ’ বাসায় এসে ডাকলে তাহসিফ বেরিয়ে যান। মায়ের কাছে তিনি বলেছিলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি।’ এরপর আর ফেরেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে ‘মমি আসছি’ এই মেসেজটি পরিবারের কাছে আসে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।
ছেলের খোঁজে বুধবার দুপুরে তাহসিফের বাবা তুরাগ থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। তখন পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিল যে এমন কোনো অঘটন ঘটেনি। কিন্তু বিকেলে সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে তাকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান। তাহসিফের বাবা ক্ষোভ ও বেদনার সাথে জানান, যে স্থানে মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে তার ছেলে সাধারণত যাওয়ার কথা নয়। তাঁর ভাষ্য, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তুরাগ থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, এ ধরনের কোনো খারাপ খবর নেই। তাহসিফের মা অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি।
এর আগে বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। নৌপুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৯৯৯-এ ফোন কল পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহটি ভাসতে থাকার খবর মেলে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। তাহসিফকে কারা বা কেন এমন নৃশংসতার শিকার বানালো, তা নিয়ে কোনো ধারণাই নেই শোকার্ত বাবার। পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তাধীন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
























