মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি ঝুঁকি: দেশে কতদিন চলবে তেলের মজুত?
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ১৯৭৪০ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানি ঝুঁকি: দেশে কতদিন চলবে তেলের মজুত?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও বাংলাদেশে আপাতত জ্বালানি তেলের তাৎক্ষণিক সংকট নেই। দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জেনে নিন সাহরী, ইফতার ও নামাজের সময়সুচী
- ফজর
- যোহর
- আছর
- মাগরিব
- এশা
- সূর্যোদয়
- ভোর ৪:২৯
- দুপুর ১১:৫৮
- বিকেল ৪:২১
- সন্ধ্যা ৬:০৯
- রাত ৭:২৩
- ভোর ৫:৪৩
- আল্লাহ্ সর্ব শক্তিমান।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মজুত জ্বালানির মধ্যে- ডিজেল প্রায় ১১ দিনের পেট্রল প্রায় ১২ দিনের, অকটেন প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণের মতো মজুত রয়েছে।
পড়ুন>> তেল কিনতে সীমা বেঁধে দিল সরকার, বাইকে ২ লিটার; কারে ১০ লিটার!
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, “প্রিমিয়াম জ্বালানির দাম জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। তাই বিশ্ববাজারের ওঠানামা এখনই আমাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে না। তবে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ এবং নতুন ক্রয় পরিকল্পনা এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ১০০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে, যা সরবরাহ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
অন্যদিকে বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল আসে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
পড়ুন>>জাদুকাটা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তিতে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা
দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়।
এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন আসে কাতার থেকে, আর বাকি অংশ আসে ওমান ও আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে কাতারে গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় শিল্প ও কৃষি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে এলপিজি খাতেও সংকট দেখা দিতে পারে। দেশে বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন এলপিজি প্রয়োজন, অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এই এলপিজির প্রায় পুরোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আমদানি করা হয়।
আরও পড়ুন>>নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
বিকল্প উৎসে জোর দেওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখনই উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা জরুরি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে হলেও তেল ক্রয় করতে হবে। পাশাপাশি নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ দ্রুত নিতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিকল্পনা ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে দ্রুত এগোতে হবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























