ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে।

 

 

কৃষিকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল করতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের ব্যবহার বাড়াতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব কার্যালয় থেকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে সরাসরি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে যোগ দেন বলে জানিয়েছেন তার উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।

পড়ুন>>স্ত্রীসহ ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কৃষি গবেষণার বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। এখন পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন ফসলের মোট ১,০৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি।

 

এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নত সেচব্যবস্থা ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বৈঠকে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

বর্তমানে দেশে ২,৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক এই সেচ কার্যক্রম আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পড়ুন>>ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ

ভোজ্য তেলের আমদানি কমাতে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮.২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫.৩৪ লাখ টন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫.৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ সহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন>>সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর প্রবেশ: তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান কাতারের

বৈঠকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদনের পাশাপাশি সুলভমূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও রিপারের মতো যন্ত্র কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে।

 

 

কৃষিকে আরও লাভজনক ও উৎপাদনশীল করতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের ব্যবহার বাড়াতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব কার্যালয় থেকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে সরাসরি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে যোগ দেন বলে জানিয়েছেন তার উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।

পড়ুন>>স্ত্রীসহ ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কৃষি গবেষণার বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। এখন পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন ফসলের মোট ১,০৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি।

 

এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নত সেচব্যবস্থা ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বৈঠকে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

বর্তমানে দেশে ২,৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা চালু রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক এই সেচ কার্যক্রম আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পড়ুন>>ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ

ভোজ্য তেলের আমদানি কমাতে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮.২৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫.৩৪ লাখ টন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫.৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ সহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন>>সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর প্রবেশ: তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান কাতারের

বৈঠকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদনের পাশাপাশি সুলভমূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও রিপারের মতো যন্ত্র কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

Facebook Comments Box