যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভিসা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলো নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। যেসব আবেদনকারী সাক্ষাৎকারের তারিখ পেয়েছিলেন, তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের শনাক্ত করার কৌশল শেখানোই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। এছাড়া সব ভিসা আবেদনকারীকে সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নের বিষয়টিও প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই কার্যক্রম কতদিন চলবে বা এর বিস্তারিত রূপরেখা কী, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ডনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চলছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলসহ বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। এমনকি রাজনৈতিক মতামত বা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলোও ভিসা আবেদনে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, এই অভিযান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং বর্ণভিত্তিক হয়রানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আইনি বাধার মুখেও পড়ছে প্রশাসন; গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন। বিচারকের মতে, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
সূত্র: মানবজমিন
Leave a Reply