বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ ‘সাওয়াব’ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ ‘সাওয়াব’ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন মৌলভীবাজারের রাজনগরে চা শ্রমিক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী, ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট প্রতারণার অভিযোগে সেলেনা গোমেজের স্টার্টআপ ওয়ান্ডারমাইন্ডের বিরুদ্ধে মামলা নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়: বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে স্তব্ধ বিশ্ব ক্রিকেট বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অপরিকল্পিত পদক্ষেপ দায়ী: প্রধানমন্ত্রী তিন ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল কাতার

বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ ‘সাওয়াব’

ইমরান হোসাইন মিলন
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ ‘সাওয়াব’

 

বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানির টেকসই সমাধানে নতুন উদ্যোগ ‘সাওয়াব’

 

 

বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে মূল চাবিকাঠি।

 

 

 

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডাসকো ফাউন্ডেশন সম্প্রতি রাজশাহীতে এক উদ্বোধনী কর্মশালার মাধ্যমে ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির টেকসই প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি (সাওয়াব)’ শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে। প্রকল্পটি দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই কর্মশালায় সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের উপদেষ্টা মন্টু কুমার বিশ্বাস, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইন উল্লাহ চৌধুরী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. তারুণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

    ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল হক আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন এবং চেয়ারম্যান জাইতুনা খাতুন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

 

 

প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম খান মূল প্রবন্ধে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল ক্রমেই পানিসঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছে।

 

 

 

তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

       প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সৌর ও বৈদ্যুতিক সাবমার্সিবল পাম্প, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর পুনঃখনন, স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্যবিধি প্রচার এবং ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট কমিটি শক্তিশালীকরণের মতো কার্যক্রম থাকবে। পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি ও স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

 

 

 

মইন উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার। কোকা-কোলায় আমরা শুধু পানীয় উৎপাদন করি না, বরং সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়। এই উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপে আমরা একসঙ্গে কাজ করে টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

 

 

বরেন্দ্র অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পানিসঙ্কট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

 

কর্মশালাটি শেষ হয় অংশীদারদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে—বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসঙ্কট মোকাবিলায় নিরাপদ, টেকসই ও সমানাধিকারভিত্তিক পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

 

 

     ডাসকো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত এবং ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংস্থাটি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার, শিক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

বরেন্দ্রসহ পানিসঙ্কটাপন্ন অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ডাসকো ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে ১০ লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

 

 

 

 

একইসঙ্গে সংস্থাটি সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে অবদান রাখছে। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো একটি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠন, যেখানে সকল মানুষ ন্যায্যভাবে সম্পদ, সেবা ও সুযোগ-সুবিধায় সমান প্রবেশাধিকার পাবে এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা ও কল্যাণ অর্জন করতে পারবে।

 

 

বাংলাদেশে কোকা-কোলার কার্যক্রম ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। আমাদের ব্র্যান্ড পোর্টফোলিওতে রয়েছে কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, স্প্রাইট মিন্ট, ফ্যান্টা, ফ্যান্টা অ্যাপল, কিনলে ওয়াটার, কিনলে সোডা, কোকা-কোলা জিরো সুগার এবং স্প্রাইট জিরো সুগার।

 

 

     বাংলাদেশে কোকা-কোলা সিস্টেম গঠিত বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা বাংলাদেশ বেভারেজেস লিমিটেড (সিসিবিবিএল) এবং আব্দুল মোনেম লিমিটেড (এএমএল) নিয়ে। এই সিস্টেমে বর্তমানে ৮০০-এর বেশি মানুষ সরাসরি নিয়োজিত এবং এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ২১,০০০-এর বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

 

 

 

২০২২ সালে কোকা-কোলা বাংলাদেশে প্রথম ১০০% রিসাইকেলযোগ্য পিইটি (PET) বোতল চালু করে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি। মাত্র তিনটি সিজনেই প্ল্যাটফর্মটি বাংলা গান ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে এবং ইউটিউবেই এর ভিউ সংখ্যা ইতিমধ্যে ৯২ কোটি ছাড়িয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে দ্য কোকা-কোলা সিস্টেম এবং ‘দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন’ (TCCF) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

 

‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট ওয়েস্ট’ গড়ার লক্ষ্যে টিসিসিএফ (TCCF) ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এসআর এশিয়া (SR Asia) ও কর্ডএইড (Cordaid)-এর সাথে ‘IMPACT-GE’ এবং ‘RESILIENT’ প্রকল্পে অংশীদারিত্ব করেছে।

 

 

 

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ডব্লিউআরজি (2030WRG), ওয়াটার এইড এবং ডব্লিউএসইউপি (WSUP)-এর সাথে পানি ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে। তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে ‘ইউনাইটেড পারপাস’-এর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি নারীকে সহায়তা করেছে এই ফাউন্ডেশন।

 

 

আরও তথ্যের জন্য:
জাহাঙ্গীর আলম খান
প্রকল্প ব্যবস্থাপক
সাওয়াব প্রকল্প
ডাসকো ফাউন্ডেশন
মোবাইল: +৮৮০ ১৭৮৭৬৮৫৯৫৭
ই-মেইল: jahangir@dascoh.org

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!