পুঠিয়ায় লাশ ধোয়া ও ঝিয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন বিধবা মা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
পুঠিয়ায় লাশ ধোয়া ও ঝিয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন বিধবা মা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ছাগল মারার অভিযোগে থানায় মামলা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক, বেঁচে যাওয়া যাত্রীর বর্ণনায় সংকট অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর রহস্য ফাঁস করলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ভারতীয় এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো ভুয়া খবরে প্রভাবিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা প্রেক্ষাপট: আবু সামরা সীমান্তে মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করল কাতার শুল্ক বিভাগ গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনি হত্যার উসকানিমূলক আহ্বান বেন-গভিরের জন্মদিনে দোয়া চাইলেন শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা শুভ সকাল; আজ সোমবার ১৭ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা একবারে ৫ বছরের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ আসছে: ডিএসসিসি প্রশাসক জ্বালানি সংকট নিরসনে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

পুঠিয়ায় লাশ ধোয়া ও ঝিয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন বিধবা মা

রাজশাহী থেকে ইসরাফিল হোসেন
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০২৪
পুঠিয়ায় লাশ ধোয়া ও ঝিয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন বিধবা মা

পুঠিয়ায় লাশ ধোয়া ও ঝিয়ের কাজ করে ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন বিধবা মা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এমন এক অসহায় মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে, যিনি এলাকায় মানুষের মৃত লাশ ধুয়ে এবং অন্যের বাসায় কাজ করে তার দুই সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। অসহায় ওই মায়ের নাম মোছাঃ রোকেয়া বেগম।

তার বাড়ি উপজেলার ভালুকগাছি ইউপির এসআরজি এলাকায়। প্রায় ৯ বছর আগে হারিয়েছেন তার স্বামীকে। তারপর থেকে বহু লড়াই সংগ্রাম করে দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েন।

এরপর থেকে এলাকায় কেউ মারা গেলে তার লাশ ধোয়ানো কাজ এবং অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে দুই সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার প্রত্যয়ে স্বপ্ন দেখছেন দিবা রাত্রি। বিধবা ওই মায়ের চোখ যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে একটু সুখের। ছেলে মেয়ে চাকরি করে মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে এই আশায় বুক বেঁধে পার করছেন দিন।

জানা যায়, বিধবা রোকেয়া পারভীনের স্বামী মোঃ আব্দুল হালিম উপজেলার এসআরজি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। স্বামী বেঁচে থাকতে সময়টা ভালোই কাটতো। সেরকমভাবে সংসারে অভাবের দেখা মেলেনি। ২০১৬ সালে স্বামী আব্দুল হালিম এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর থেকেই অভাব যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে রোকিয়া পারভীনের।

ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে বহুদিন। সংসারের হাল ধরতে যে কাজটি কেউ করতে চায় না, মৃত মানুষের লাশ ধোয়া, সে কাজটি বেছে নেয় রোকিয়া পারভীন।

পাশাপাশি অন্যের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে চলে অসহায় ওই মায়ের পথ চলা। বাড়ির ভিটা ছাড়া, সম্পদ বলতে কিছুই নেই। ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে পড়াশোনা করছেন অনার্সে। এতদিনে হয়তো মায়ের জীবন কিছুটা সার্থক হয়েছে।কষ্টের ফল ধরার দিন গুণছেন অসহায় মা।

সংসারের অভাব নামের দুঃখ ঘোচাতে ভালুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট অনেক ধর্ণা দিয়েও  সরকারি সহায়তা বা বিধবা ভাতার কার্ড মিলেনি।

তাই সরকারি কোনো সহায়তা পাবার আশা একদমই ছেড়ে দিয়েছেন এখন। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতা-নেত্রীদের কাছে কোথাও কোন সহায়তা না পেয়ে, রোকেয়া পারভীন বুঝে গেছেন হয়তো সরকারি সহায়তা বা ভাতা সেগুলো তার কপালে নেই।

বড় ছেলে আবু সায়েম তিনি রাজশাহী কলেজে ভূগোল বিষয়ের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। আর ছোট মেয়ে মোছাঃ হালিমাতুস সাদিয়া অগ্রণী কলেজ রাজশাহীতে এইচএসসিতে পড়াশোনা করছে।

রোকিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাবার পর, না খেয়ে না পরে বহু কষ্ট করে ছেলেমেয়ে দুজনকে পড়াশোনা করাচ্ছি।

 অন্যের বাসায় কাজ করে ও এলাকায় কেউ মারা গেলে তার লাশ ধোয়ানোর কাজ করে আমার ছেলে মেয়ে দুটিকে আজ বড় করেছি বড় ছেলে অনার্সে পড়ছে আর মেয়েটা কে রাজশাহী অগ্রণী কলেজে ভর্তি করে দিয়েছি।

আমি বহুবার সরকারি অনুদানের জন্য চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতা নেত্রীদের কাছে গিয়েছি কেউ আমাকে সহায়তা করেনি।

আমার প্রশ্ন মানুষ আরো কতোটা অসহায় হলে তার জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ মিলে আর বিধবা হবার কতো বছর পার হলে তাকে বিধবা বলা হয় আমার জানা নেই।

এসব বিষয়ে কথা হয় ভালুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টা আমি জানতাম, কিন্তু মনে থাকে না। এবার যদি কোন অনুদান আসে তাহলে তার জন্য রাখার চেষ্টা করব। আসলেই সে সরকারি অনুদান ও বিধবা ভাতা পাবার যোগ্য।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!