ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু বাণিজ্যিক ফ্লাইট কাউনিয়ায় আলোর দিশারী পাঠাগারের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশের গাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৪ কাউনিয়ায় তকিপল বাজার যুব সংঘের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নওগাঁয় সড়কে ছিনতাই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে না ফেরার দেশে সাংবাদিক ও সাবেক এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র সংকটের মুখে জরিমানা আদায়: পাবনায় পরিবেশ দূষণ রোধে অভিযান

পঞ্চগড়ে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অসহায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩০৭ বার পড়া হয়েছে

লেখকদের বিরুদ্ধে মামলা; তদন্তের নির্দেশ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অসহায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাটির জন্য দায়ী করা হয়। এছাড়া এই মামলায় আসামী করা হয় আরো ৪ জনকে।

শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী থানায় মামলা দুটি করেন মৃত ব্যক্তির ছেলে। মামলায় জড়ানো ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে রয়েছেন।

আর আসামীরা হলেন- ওই ইউনিয়নের লাখেরাজ ঘুমটি এলাকার পলাশ চন্দ্র বর্মন (২৫), তার বাবা শ্যামল চন্দ্র বর্মন (৪৬), একই এলাকার মৃত ধনবর বর্মনের ছেলে ভবেন বর্মন (৫০) এবং অলকান্ত বর্মনের ছেলে কাজল বর্মন (২৩)।

মামলার বাদী জানান- তার কলেজ পড়ুয়া বোনকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন আসামী পলাশ চন্দ্র বর্মন। এঘটনার বিচার দাবি করলে বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে সুরাহার আশ্বাস দেন ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন।

কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও কোন সুরাহা করতে পারেননি তিনি। বারবার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েও কোন বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তার বাবা (৫০)।

গত বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে গলায় চাঁদর পেচিয়ে বাড়ির অদুরে আবাদি জমির পাশের একটি পাকুর গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- তার বোনকে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে অভিযুক্ত পলাশ চন্দ্র বর্মন জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করে অপর আসামী কাজল। পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে পলাশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।

এক পর্যায়ে পলাশ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন তার বোন। চিকিৎসাধীন ছিলেন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালেও। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি সুরাহার আশ্বাস দেন।

পরদিন চেয়ারম্যানের কথামত আসামী কাজলের বাড়িতে বসা হয়। কিন্তু সেখানে সুরাহার পরিবর্তে মামলার বাদী এবং তার বাবাকে আসামীরা উল্টো হুমকি-ধামকি দেন।

পরে চেয়ারম্যান আরো তিন-চারদিন সময় চান মিমাংসার জন্য। কিন্তু তিনি বিষয়টির গুরুত্ব না দিয়ে কালক্ষেপণ করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

মামলার বাদী বলেন, মৌখিক অভিযোগে চেয়ারম্যানের দায়িত্বহীনতা দেখে ২৪ জানুয়ারি লিখিত অভিযোগ দেই। পড়ুন>> জোরপূর্বক যুবককে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলো সংঘবদ্ধ চার তরুণী

পরে চেয়ারম্যান আমাদের নোটিশের মাধ্যমে জানান ১ ফেব্রুয়ারী ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হতে। কিন্তু সেদিন খবর পাই আসামীরা উপস্থিত হবেনা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও টালবাহানা শুরু করেন।

বিচার না পাবার আশঙ্কায় আমার বাবা ভেঙে পড়েন। এদিকে, পরিষদে অভিযোগ দেয়ায় পলাশের বাবা শ্যামল এবং আসামী ভবেন আমার বাবাকে তাচ্ছিল্য করেন এবং বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা বাড়ি এসেই কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে রাতে সবার অগোচরে আত্মহত্যা করেন। একাধিকবার বলার পরেও চেয়ারম্যান ন্যায় বিচার করেননি বলেই আমার বাবা বিচার না পাবার আশঙ্কায় আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু আটোয়ারী থানা এলাকায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনাস্থল, এজন্য আটোয়ারী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছি। আর সদর থানায় করেছি বোনের ধর্ষণের বিষয়ে।

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ করেছি। গত ১ ফেব্রুয়ারি বসার কথা ছিলো।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সাবেক চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে হেরোইনসহ আটক 

কিন্তু অভিযোগকারিরাই আসেননি। না আসলে কিভাবে সুরাহা করবো? আর আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা।

পড়ুন>>কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মাকে খুঁজতে গিয়ে শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার: ধর্ষক আটক

পৃথক দুই মামলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন আটোয়ারী থানার ওসি সোহেল রানা এবং সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “পঞ্চগড়ে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অসহায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়ে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অসহায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

পঞ্চগড়ে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে অসহায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাটির জন্য দায়ী করা হয়। এছাড়া এই মামলায় আসামী করা হয় আরো ৪ জনকে।

শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী থানায় মামলা দুটি করেন মৃত ব্যক্তির ছেলে। মামলায় জড়ানো ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে রয়েছেন।

আর আসামীরা হলেন- ওই ইউনিয়নের লাখেরাজ ঘুমটি এলাকার পলাশ চন্দ্র বর্মন (২৫), তার বাবা শ্যামল চন্দ্র বর্মন (৪৬), একই এলাকার মৃত ধনবর বর্মনের ছেলে ভবেন বর্মন (৫০) এবং অলকান্ত বর্মনের ছেলে কাজল বর্মন (২৩)।

মামলার বাদী জানান- তার কলেজ পড়ুয়া বোনকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন আসামী পলাশ চন্দ্র বর্মন। এঘটনার বিচার দাবি করলে বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে সুরাহার আশ্বাস দেন ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন।

কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও কোন সুরাহা করতে পারেননি তিনি। বারবার চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েও কোন বিচার না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তার বাবা (৫০)।

গত বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে গলায় চাঁদর পেচিয়ে বাড়ির অদুরে আবাদি জমির পাশের একটি পাকুর গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি।

মামলায় উল্লেখ করা হয়- তার বোনকে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে অভিযুক্ত পলাশ চন্দ্র বর্মন জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করে অপর আসামী কাজল। পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে পলাশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।

এক পর্যায়ে পলাশ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন তার বোন। চিকিৎসাধীন ছিলেন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালেও। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি সুরাহার আশ্বাস দেন।

পরদিন চেয়ারম্যানের কথামত আসামী কাজলের বাড়িতে বসা হয়। কিন্তু সেখানে সুরাহার পরিবর্তে মামলার বাদী এবং তার বাবাকে আসামীরা উল্টো হুমকি-ধামকি দেন।

পরে চেয়ারম্যান আরো তিন-চারদিন সময় চান মিমাংসার জন্য। কিন্তু তিনি বিষয়টির গুরুত্ব না দিয়ে কালক্ষেপণ করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

মামলার বাদী বলেন, মৌখিক অভিযোগে চেয়ারম্যানের দায়িত্বহীনতা দেখে ২৪ জানুয়ারি লিখিত অভিযোগ দেই। পড়ুন>> জোরপূর্বক যুবককে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলো সংঘবদ্ধ চার তরুণী

পরে চেয়ারম্যান আমাদের নোটিশের মাধ্যমে জানান ১ ফেব্রুয়ারী ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হতে। কিন্তু সেদিন খবর পাই আসামীরা উপস্থিত হবেনা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও টালবাহানা শুরু করেন।

বিচার না পাবার আশঙ্কায় আমার বাবা ভেঙে পড়েন। এদিকে, পরিষদে অভিযোগ দেয়ায় পলাশের বাবা শ্যামল এবং আসামী ভবেন আমার বাবাকে তাচ্ছিল্য করেন এবং বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা বাড়ি এসেই কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে রাতে সবার অগোচরে আত্মহত্যা করেন। একাধিকবার বলার পরেও চেয়ারম্যান ন্যায় বিচার করেননি বলেই আমার বাবা বিচার না পাবার আশঙ্কায় আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু আটোয়ারী থানা এলাকায় বাবার আত্মহত্যার ঘটনাস্থল, এজন্য আটোয়ারী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছি। আর সদর থানায় করেছি বোনের ধর্ষণের বিষয়ে।

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ করেছি। গত ১ ফেব্রুয়ারি বসার কথা ছিলো।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সাবেক চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে হেরোইনসহ আটক 

কিন্তু অভিযোগকারিরাই আসেননি। না আসলে কিভাবে সুরাহা করবো? আর আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা।

পড়ুন>>কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মাকে খুঁজতে গিয়ে শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার: ধর্ষক আটক

পৃথক দুই মামলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন আটোয়ারী থানার ওসি সোহেল রানা এবং সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া।

Facebook Comments Box