কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নির্বাচন অফিসের নাজমুল হুদা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতনের শিকার। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মোঃ নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, সন্তান পেটে আসায় একাধিকবার সন্তান নষ্ট করার চেষ্টাও করা হয়ে ছিলো। সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর থেকে নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন রেবেকা সুলতানা রানু (২৪)কে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
পরে ১১মাস বয়সী পুত্র সন্তান রাফসান হুদা রাহীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন নির্যাতিত স্ত্রী রেবেকা সুলতানা রানু।
সন্তানের খোরপোশ না দিয়ে খোঁজ খবর না নিয়ে যৌতুকের দাবি অব্যাহত রেখেছেন স্বামী নাজমুল হুদা, শশুর রমজান আলী (৫৫) শাশুড়ী লাইজু বেগম (৪৮) ও চাচা শশুর মোঃ লিটন মিয়া (৪৯)।
যৌতুক না দিলে তাকে আর ঘরে তোলা হবে না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন। একপর্যায়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়ার জন্য চলে দফায় দফায় নির্যাতন।
পরে গত ১ মে ২০২২ তারিখে বাবার বাড়িতে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন রেবেকা সুলতানা রানু। দীর্ঘদিন ওই সন্তানের কোনো খোঁজ খবর নেননি নাজমুল হুদা।
একপর্যায়ে রানুর বাবা মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে জামাই নাজমুল হুদার বাড়িতে গেলে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নাজমুল হুদা ও তার পরিবার। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় রানুকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে মারধর করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।
আরো জানা গেছে, নাজমুল হুদা তার বিভিন্ন বান্ধবী ও অনেক নারীর প্রতিও আসক্ত। সন্তান নিয়ে এখন অসহায় রানু যৌতুকলোভী স্বামীর বিচার চেয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। বর্তমান নাজমুল হুদা নাগেশ্বরী নির্বাচন অফিসে কর্মরত আছে।
রানুর স্বামী নাজমুল হুদার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ব্যবহিত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply