ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অনুপ্রবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বারবার হামলা, নাসীরুদ্দীনের নিরাপত্তা নিয়ে এনসিপির গভীর উদ্বেগ প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি: রাষ্ট্রপতি প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানে যুদ্ধের উত্তেজনা কমার লক্ষণ দেখছেন না কূটনীতিকরা নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ? রাবিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: প্রক্টর-প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কানাডার উৎসবে নাজিফা তুষির প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার

তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে কৃষক কাউনিয়ায় তিস্তার চরে চলছে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব

কাউনিয়া (রংপুর) আব্দুল কুদ্দুস বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় তিস্তার চরের মিষ্টি কুমড়া

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে কৃষক কাউনিয়ায় তিস্তার চরে চলছে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব

 

 

কাউনিয়ার তিস্তার বালুচরে এখন চলছে খেত থেকে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব। কৃষক পরিবারের দম ফেলার ফুসরত নেই। কাক ডাকা ভোরে খেতে গিয়ে কুমড়া তুলে স্তুপ করছে খেতের কোনায়। ক্রেতারা দেখে শুনে কুমড়া ক্রয় করে বস্তায় ভরে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে ডাঙ্গায়(উচ্চ স্থানে)। এখন কুমড়া তুলতে না পারলে যে কোন সময় তিস্তার পানি ঢলে ভেসে যেতে পারে কুমড়া খেত। তাই কৃষকেরা বৃষ্টি আর তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

কাউনিয়ার তিস্তা নদীর বালুচরে এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা,যশোর,কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

 

 

 

সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর তালুক শাহবাজ, চরগনাই, নিজপাড়া, চর ঢুষমারা,পাঞ্জরভাঙ্গা চরে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি কুমড়া খেতে লাল হলুদ রঙ ধারন করে অপরুপ শোভা ছড়াচ্ছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু মিষ্টি কুমড়ার খেত।

পড়ুন>>রাগ করে ঘর থেকে বের হয়েই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী : আটক ৩ 

 

তালুকশাহ গ্রামের কুমড়া চাষী মতিয়ার রহমান জানান তিনি ১হেক্টর জমিতে ৬ শ’ কুমড়ার চারা রোপণ করে ছিলেন। ভালো ফলন ভাল দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশি। খেতেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা কেজি দরে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরানবাজার নিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

একই এলাকার কুমড়া চাষী মুক্তার হোসেন বলেন, তিনি দেড় একর জমিতে ব্যাংকক-০১ব্লাকস্টোন জাতের কুমড়া চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছে। দাম ও ফলন ভাল পেয়ে তিনিও বেশ খুশি।

 

 

একই চরের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন বর্ষায় নদীর দু’কূল উপচিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমি বসতভিটাসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয় তিস্তা নদী। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও পেটে দু’মুঠো ডাল ভাত জোগাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালুচরে কুমড়া চাষ করে থাকি। চরাঞ্চলের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় এই ফসলে বেশি আগ্রহী ওঠেছেন চাষিরা।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ১৭টি চরে ৯০ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে। উপজেলার নদীভাঙা ৪টি ইউনিয়নের ১৭ চরে ৩২৭জন প্রান্তিক চাষি ৯০ হেক্টর বালুচরের জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। ব্যাংকক-০১, ব্লাকস্টোন,
বারি মিষ্টি কুমড়া, বেতব্রি, সবুজ বাংলা, পাথর কুচি, বদ্দবাটি, পাতায়া-০১ জাতের কুমড়া চাষ করা হয়েছে তিস্তার বালুচরে।

 

 

১ হেক্টর জমিতে কুমড়ার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪শ’ মেট্রিকটন, প্রতি ১ হেক্টর জমিতে খরচ ধরা হয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিক্রি হবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতি ১ হেক্টর জমিতে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কাউনিয়ার তিস্তার চরের কুমড়া বিক্রি হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

পড়ুন>> ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

 

অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মিষ্টি কুমড়া রোপণ করে তা এপ্রিলের শেষে খেত থেকে তোলা শুরু হয়েছে। চাষিরা তাদের লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করা পাকা মিষ্টি কুমড়া খেত থেকে তুলে বিক্রির জন্য খেতের কোণায়, নদী পাড়ে স্তূপ করে রেখেছে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে।

 

 

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, তিস্তার বালু চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষকপ্রকল্পের আওতায় ৩২৭ জন চাষি ৯০ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের প্রশিক্ষণ, বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে। এ উপজেলায় দিন দিন কুমড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমড়া চাষ করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে কৃষক কাউনিয়ায় তিস্তার চরে চলছে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব

আপডেট সময় : ১০:১৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

 

 

 

তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে কৃষক কাউনিয়ায় তিস্তার চরে চলছে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব

 

 

কাউনিয়ার তিস্তার বালুচরে এখন চলছে খেত থেকে মিষ্টি কুমড়া উত্তোলনের উৎসব। কৃষক পরিবারের দম ফেলার ফুসরত নেই। কাক ডাকা ভোরে খেতে গিয়ে কুমড়া তুলে স্তুপ করছে খেতের কোনায়। ক্রেতারা দেখে শুনে কুমড়া ক্রয় করে বস্তায় ভরে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে ডাঙ্গায়(উচ্চ স্থানে)। এখন কুমড়া তুলতে না পারলে যে কোন সময় তিস্তার পানি ঢলে ভেসে যেতে পারে কুমড়া খেত। তাই কৃষকেরা বৃষ্টি আর তিস্তার পানি বৃদ্ধি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

কাউনিয়ার তিস্তা নদীর বালুচরে এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা,যশোর,কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

 

 

 

সরেজমিনে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর তালুক শাহবাজ, চরগনাই, নিজপাড়া, চর ঢুষমারা,পাঞ্জরভাঙ্গা চরে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি কুমড়া খেতে লাল হলুদ রঙ ধারন করে অপরুপ শোভা ছড়াচ্ছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু মিষ্টি কুমড়ার খেত।

পড়ুন>>রাগ করে ঘর থেকে বের হয়েই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী : আটক ৩ 

 

তালুকশাহ গ্রামের কুমড়া চাষী মতিয়ার রহমান জানান তিনি ১হেক্টর জমিতে ৬ শ’ কুমড়ার চারা রোপণ করে ছিলেন। ভালো ফলন ভাল দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশি। খেতেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা কেজি দরে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরানবাজার নিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

একই এলাকার কুমড়া চাষী মুক্তার হোসেন বলেন, তিনি দেড় একর জমিতে ব্যাংকক-০১ব্লাকস্টোন জাতের কুমড়া চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছে। দাম ও ফলন ভাল পেয়ে তিনিও বেশ খুশি।

 

 

একই চরের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন বর্ষায় নদীর দু’কূল উপচিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমি বসতভিটাসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয় তিস্তা নদী। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও পেটে দু’মুঠো ডাল ভাত জোগাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালুচরে কুমড়া চাষ করে থাকি। চরাঞ্চলের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় এই ফসলে বেশি আগ্রহী ওঠেছেন চাষিরা।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ১৭টি চরে ৯০ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে। উপজেলার নদীভাঙা ৪টি ইউনিয়নের ১৭ চরে ৩২৭জন প্রান্তিক চাষি ৯০ হেক্টর বালুচরের জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। ব্যাংকক-০১, ব্লাকস্টোন,
বারি মিষ্টি কুমড়া, বেতব্রি, সবুজ বাংলা, পাথর কুচি, বদ্দবাটি, পাতায়া-০১ জাতের কুমড়া চাষ করা হয়েছে তিস্তার বালুচরে।

 

 

১ হেক্টর জমিতে কুমড়ার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪শ’ মেট্রিকটন, প্রতি ১ হেক্টর জমিতে খরচ ধরা হয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিক্রি হবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতি ১ হেক্টর জমিতে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কাউনিয়ার তিস্তার চরের কুমড়া বিক্রি হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

পড়ুন>> ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

 

অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মিষ্টি কুমড়া রোপণ করে তা এপ্রিলের শেষে খেত থেকে তোলা শুরু হয়েছে। চাষিরা তাদের লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করা পাকা মিষ্টি কুমড়া খেত থেকে তুলে বিক্রির জন্য খেতের কোণায়, নদী পাড়ে স্তূপ করে রেখেছে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে।

 

 

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, তিস্তার বালু চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষকপ্রকল্পের আওতায় ৩২৭ জন চাষি ৯০ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের প্রশিক্ষণ, বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে। এ উপজেলায় দিন দিন কুমড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমড়া চাষ করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box