তিন সিটিতে ভোট দিয়েই শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০২:১৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৯৭০ বার পড়া হয়েছে
তিন সিটিতে ভোট দিয়েই শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
তিন সিটিতে ভোট দিয়েই শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, এই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন এবং একই সঙ্গে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। এর ফলে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া দেশের প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
পড়ুন>> বোদায় টিসিবির তেলের কার্টনে মিলল পানি!
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার সম্মতি দেয়নি।
আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ২ জুন। সে হিসাবে ২০২৫ সালের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের ৩ জুন এবং এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।
এই বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশন মনে করছে, তিনটি সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এখন আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। সে কারণেই প্রথম ধাপে এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পড়ুনপাইকগাছার বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংস্কার করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। সময় সীমিত হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও ভাবছে কমিশন।
এ বিষয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন,“নির্বাচন আয়োজনই নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব। সব সময়ই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হয়। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের পথে এগিয়ে যাবে নির্বাচন কমিশন।”
বিশ্লেষকদের মতে, তিন বড় সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা কাটিয়ে আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























