টবে কিংবা হাফ ড্রামে ড্রাগন ফলের চাষ
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২ ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে
টবে কিংবা হাফ ড্রামে ড্রাগন ফলের চাষ পদ্ধতি
ড্রাগন মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমাদের দেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়।
নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত এ ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। তার সাথে ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস।
ড্রাগন ফল গাছ ক্যাকটাস সদৃশ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। ড্রাগন চাষে পরিচর্যা ও জায়গা কম লাগায় বাড়ির ছাদে বড় টবে বা ড্রামে ড্রাগন চাষ বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হয়েছে।
পড়ুন>>সজনে গাছের প্রুনিং করলে ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়
কখন ড্রাগন চারা লাগাবেন ?
সারা বছরই ড্রাগন চারা লাগানো যায়। তবে ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপণ করাই উত্তম।
ড্রাগন চারা লাগানোর উপযুক্ত মাটি :
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন চারা চাষ করা যায়। তবে জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটি ড্রাগন চারা লাগানোর জন্য উত্তম। ড্রাগন সাধারণত গাছের কাটিং লাগানো হয়।
টবে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। কারণ এ আকারের ড্রামে চারা ভালোভাবে শিকড় ছড়াতে পারবে আর তাতে ফলনও অনেক ভালো হবে। টবে বা ড্রামে যাতে পানি না জমে সে জন্য ড্রামের তলায় ৪-৫টি ছোট ছিদ্র করে নিতে হবে এবং ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।
ড্রাগনের উন্নত জাত :
বাংলাদেশে উদ্ভাবিত জাতগুলো হলো- বারি ড্রাগন ফল-১, বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ,বাউ ড্রাগন ফল-২ ( লাল ), বাউ ড্রাগন ফল-৩
পড়ুন>> ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি
কি ভাবে মাটি তৈরি করতে হবে?
ড্রাম বা টবের ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার মিশিয়ে টব বা ড্রাম এমনভাবে ভর্তি করতে হবে, যেন উপরে পানি দেওয়ার জন্য একটু (৩-৫ সেমি) খালি থাকে। এরপর মাটির সাথে অন্যান্য উপাদান ভালোভাবে মেশানোর জন্য পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। এরপর মাটি কিছুটা আলগা করে দিয়ে পুনরায় ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরে করে ড্রামে ভরতে হবে।
টবের মাটি ঝুরঝুরে হয়ে গেলে ড্রাগনের কাটিংয়ের চারা ওই টবে ৮-১০ সেমি গভীর করে রোপণ করতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে।
কোথা থেকে ড্রাগন কাটিং বা চারা সংগ্রহ করতে হবে?
ড্রাগন ফলের সুস্থ ও রোগমুক্ত কাটিং বা চারা বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে অবস্থিত বৃহৎ জার্মপ্লাজম সেন্টার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন নার্সারিতেও পাওয়া যায়। এছাড়াও নার্সারীতে ড্রাগন চারা বা কাটিং পায়া যায়।
কিভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে?
ড্রাগন ফল গাছের সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন ভালো হবে না। ড্রাগনের গাছের কাণ্ড লতানো প্রকৃতির। তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে গাছকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে পিলারের মাথায় গোলাকার কোন কিছু যেমন টায়ার বেঁধে দিতে হবে।
এতে গাছ সহজেই ঢলে পড়বে না। গাছে অতিরিক্ত বা রোগাক্রান্ত শাখা বের হলে তা কেটে ফেলে দিতে হবে। গাছের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যদিও ড্রাগন ফল গাছে তেমন একটা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয় না। তবে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য যত্ন নিয়মিত নিতে হবে।
এটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ বলে চাষে খুব বেশি পানি দিতে হয় না। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে। কাটিং লাগানোর পরে টব বা ড্রামটিকে মাটিতে বা ছাদে রৌদ্রোজ্জ্বল জায়গায় রাখতে হবে।
পড়ুন>> আলুর ঢলে পড়া রোগ Potato droppings disease
পরাগায়ন:
ড্রাগনের ফুল স্ব-পরাগায়িত ফুল অর্থাৎ একই ফুলের পরাগ রেণু দ্বারা স্ত্রী ফুলের পরাগায়িত হয়। এক্ষেত্রে, পোকা- মাকড় দ্বারা পরাগায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কোন কারনে, পরাগ রেণূ অপরিপক্ব বা অপুষ্ট হলে, পরাগায়ন নাও হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ফল হবে না।
এক্ষেত্রে, একই রাতে/একই সময়ে ( ড্রাগনের ফুল সাধারনত রাত ১০ দিকে ফোটে) ফোটা ফুল হতে পরাগরেণু সংগ্রহ করে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে লাগিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ, কৃত্রিম পরাগায়ন/হাত পরাগায়ন করে ফল ধরানো সম্ভব।
পডুন>> খুব সহজে সংরক্ষণ করুন কাঁচা কিংবা পাকা আম
প্রুনিং করা:
ড্রাগন ফল খুব দ্রুত বাড়ে এবং মোটা শাখা তৈরি করে। একটি ১ বছরের গাছ ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে এবং ৪ বছরের বয়সী একটি ড্রাগন ফলের গাছ ১শ’ ৩০টি পর্যন্ত প্রশাখা তৈরি করতে পারে। তবে শাখা প্রশাখা উৎপাদন প্রুনিং করার ওপর নির্ভর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১২ থেকে ১৮ মাস পর একটি গাছ ফল ধারণ করে। ফল সংগ্রহের ৪০ থেকে ৫০টি প্রধান শাখায় প্রত্যেকটি ১ বা ২টি উপশাখা অনুমোদন করা হয়।
তবে এ ক্ষেত্রে টারসিয়ারী ও কোয়ার্টারনারী প্রশাখাকে অনুমোদন করা হয় প্রুনিং দিনের মধ্যে ভাগে করাই ভালো। প্রুনিং করার পর অবশ্যই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন প্রকার রোগবালাই আক্রমণ করতে পারে। পড়ুন>> ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি
কখন ফল সংগ্রহ করবেন?
ড্রাগন ফলের কাটিং বা চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছর বয়সেই এর ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল ফোটার ৩৫-৪০ দিনের মধ্যেই ফল পরিপক্ক হয়। তখন ফল সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। প্রতিকেজি ফল বাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে বিক্রি হয়। একবার গাছ লাগালে টানা প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায়।
জেনে নিন>> নাকের লোম তুলে ফেললে স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি হয়?
ড্রাগন ফলের ব্যবহারঃ
ড্রাগন ফল ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেলে ভালো লাগে। ফলকে ২/৪ টুকরা করে চামচ দিয়ে কুরে এর শাঁস খাওয়া যায়।
এছাড়াও খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়া যায়।
ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ:
১. ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি ও বি থাকায় তা আমাদের হাড়, দাঁত, ত্বক ও চুলের পুষ্টি যোগায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও স্ক্যার্ভি, জ্বর, মুখের ঘা ইত্যাদি সমস্যায় এই ফলটি বেশ উপকারী।
২. এই ফলে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আছে যা আমাদের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পড়ুন>> খুব সহজেই ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করুন
৩. ফলটিতে ক্যালরি এবং ফ্যাট কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এবং যাদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য তাদের জন্য বেশ উপকারী।
৪. ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে বায়োফ্লাভোনয়েড পাওয়া যায় যা ক্যান্সার বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশ উপকারী।
৫. ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা যকৃত, পাকস্থলী, দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও অল্প বয়সে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
জেনে নিন>> বাঙ্গালী জাতির ইতিবৃত্ত
৬. ড্রাগন ফল আমাদের শরীরের বিভিন্ন খারাপ কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে ইত্যাদি।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























One thought on “টবে কিংবা হাফ ড্রামে ড্রাগন ফলের চাষ”