ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যাংক খাতের মতো বীমা খাতেও লুটপাট চলছে: অর্থমন্ত্রী শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আইসিসির জোড়া শাস্তির মুখে পাকিস্তান আসিফ নজরুলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মন্তব্যটি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বেসরকারি সংস্থা সেতুতে ১৬৯ পদে নিয়োগ, বেতন ও আবেদনের নিয়মাবলি কাতারে ট্যাক্সি ও লিমোজিন সেবায় নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করল কর্তৃপক্ষ হারানো সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্য দিলে মিলবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫৮ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ী ও ভ্যানচালকসহ চারজনকে জরিমানা

শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে তাঁর অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে কর্তৃপক্ষ খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ক্লাস চালু রাখার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

বিভাগটির শিক্ষার্থীরা জানান, আর্কিটেকচার বিভাগে বর্তমানে মোট ১৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিভাগ থেকে এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে পারেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, যথাযথ শিক্ষকের অভাবে তাদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছেন। ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র জানান, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও তারা কেবল আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে। একই সেশনের শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলমের ভাষ্য, একটি ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে বর্তমানে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে। এভাবে চললে ১০টি সেমিস্টার শেষ করতে শিক্ষার্থীদের ১০ থেকে ১২ বছর লেগে যাবে, যার ফলে চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান স্বীকার করেন যে, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত সাময়িক সমাধান হিসেবে পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখনো পড়াশোনা শেষ করতে না পারার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার পর ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে পারেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছেন, যেখানে থাকার কথা ১৬ জন। চাকরির আরও তথ্য: সোহেল হাসান খণ্ডকালীন (পার্ট টাইম) শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে দিনের পর দিন শিক্ষকের অভাবে ক্লাস কার্যক্রম না চলায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিক্ষক সংকটের জেরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৮:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে তাঁর অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে কর্তৃপক্ষ খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ক্লাস চালু রাখার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

বিভাগটির শিক্ষার্থীরা জানান, আর্কিটেকচার বিভাগে বর্তমানে মোট ১৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিভাগ থেকে এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে পারেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, যথাযথ শিক্ষকের অভাবে তাদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছেন। ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র জানান, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও তারা কেবল আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে। একই সেশনের শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলমের ভাষ্য, একটি ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে বর্তমানে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে। এভাবে চললে ১০টি সেমিস্টার শেষ করতে শিক্ষার্থীদের ১০ থেকে ১২ বছর লেগে যাবে, যার ফলে চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান স্বীকার করেন যে, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি জানান, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত সাময়িক সমাধান হিসেবে পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখনো পড়াশোনা শেষ করতে না পারার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার পর ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে পারেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছেন, যেখানে থাকার কথা ১৬ জন। চাকরির আরও তথ্য: সোহেল হাসান খণ্ডকালীন (পার্ট টাইম) শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে দিনের পর দিন শিক্ষকের অভাবে ক্লাস কার্যক্রম না চলায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

Facebook Comments Box