জনবল সংকটে ধুঁকছে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল হলো ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটিতে অবকাঠামো ও কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় সেবা থেকে। দক্ষ সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্টের অভাবে অপারেশন থিয়েটারটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
২০১৫ সালে এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই তুলনায় জনবল বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে এখানে অনুমোদিত ৩৬টি চিকিৎসকের পদের মধ্যে ২৫টিই বছরের পর বছর ধরে খালি পড়ে আছে। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো জুনিয়র কনসালট্যান্ট নেই। প্রতিদিন জরুরি ও বহির্বিভাগে চারশ থেকে সাড়ে চারশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের বারান্দা বা মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন যেখানে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ প্রসূতি, শিশু ও সাধারণ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, সেখানে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে প্রসূতিসেবার ক্ষেত্রে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ জন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে হাসপাতালে এলেও সার্জনের অভাবে তাদের ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসাসেবা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে রোগীদের নেত্রকোনা বা মোহনগঞ্জের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে, যেখানে যাতায়াত ও অস্ত্রোপচারের খরচ বাবদ পরিবারগুলোকে বাড়তি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। প্রান্তিক ও দরিদ্র হাওরবাসীর জন্য এই বাড়তি আর্থিক বোঝা অত্যন্ত অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রান্তিক এলাকায় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে এমন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে হাসপাতালটির দীর্ঘদিনের সংকটের চিত্র।
নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতার কারণে শুধু অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির স্তূপ জমেছে, কিন্তু তার ব্যবহারের উপযোগী মানবসম্পদ নিশ্চিত করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বারবার লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো কার্যকর করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। অবিলম্বে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি অকেজো যন্ত্রপাতি সচল করে হাওরাঞ্চলের মানুষের মৌলিক চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কেন বুঝতে চান না, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখলেই স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ে না; সেই যন্ত্রপাতি চালানোর উপযোগী দক্ষ জনবলও সুনিশ্চিত করতে হয়।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























