ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ মৃত্যু সর্বকালের সেরা ফুটবলার বিতর্ক: মেসির ওপর পেলেকে রাখলেন রোমারিও পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড ম্যান সিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি স্টিভেন জেরার্ডের আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে এমটিও নিয়োগ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ ঝালকাঠিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারী হাজতির মৃত্যু এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য: নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম গুনছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্তার মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক সিজেপি’র দুই মুখপাত্র

চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: ভয়ে ধান কাটছে কৃষি শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪ ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: ভয়ে ধান কাটছে কৃষি শ্রমিক

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: ভয়ে ধান কাটছে কৃষি শ্রমিক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের চরাঞ্চলে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষধর সাপের কামড়ে গত দেড় মাসে তিন কৃষকের মৃত্যুর খবরে জমি থেকে ফসল তুলতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

জেলার উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর, মহিদাপুর, দেবীপুর, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর করনেশনা, আংকের শেখের পাড়াসহ চরাঞ্চলে সাপের উপদ্রবে বাসিন্দারা ভয়ে ফসল কাটতে মাঠে যাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চর মজলিশপুর এলাকায় এপ্রিল মাসে জমি থেকে ভুট্টা তোলার সময় সাঈদুল শেখ নামের এক কৃষক সাপের কামড়ে মারা যান। তার আগে ২৯ মার্চ চর দেবীপুর মাঠে ময়না বেগম নামের এক কিষানিকে সাপে কামড়ায়। চিকিৎসা নেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

মহিদাপুরের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘২৭ মে দুপুরে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক শামীম শেখসহ কয়েকজন পদ্মা নদী থেকে একটি নৌকা টেনে তীরে তুলছিলেন। নৌকার নিচে থাকা রাসেল ভাইপার সাপ শামীমের পায়ে কামড় দেয়।

লোকজন সাপটি মেরে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন বিকেলে শামীম মারা যান। এরপর গত বুধবার ধান কাটার সময় কৃষকরা আরেকটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারেন। এখন ভয়ে কেউ জমিতে নামতে ও চরে যেতে সাহস পাচ্ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দারা সাপ আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শেখ রাসেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘পুরো চরাঞ্চলজুড়ে রাসেলস ভাইপার সাপের কারণে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ জমিতে যেতে চাচ্ছে না এবং ধান, ভুট্টা কাটতে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে কৃষকরা সাপ দেখে পিটিয়ে মেরে ফেলে মাটিতে পুঁতে ফেলছেন। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারসিম তারান্নুম হক বলেন, ‘গত মার্চ মাসে একজন, এপ্রিলে একজন ও মে মাসে দুজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। মাঝেমধ্যে সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে আসছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কেউ মারা যায়নি।

তাছাড়া আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন রয়েছে। সাপে কাটা রোগী বা পরিবারের কেউ আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে ওঝার কাছে না নিয়ে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে। সাপে কাটার পর সময়মতো চিকিৎসা দিতে পারলে রোগী বেঁচে যাবে।’

এ দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকনউজ্জামান বিশেষ ধরনের জুতা পরে কাজ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ায় কৃষকরা চিন্তিত। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রথম অবস্থায় চরাঞ্চলের ১০০ জন কৃষককে গামবুট জুতা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্রমিকদের মধ্যেও বিতরণ করা হবে।’

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: ভয়ে ধান কাটছে কৃষি শ্রমিক

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: ভয়ে ধান কাটছে কৃষি শ্রমিক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের চরাঞ্চলে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষধর সাপের কামড়ে গত দেড় মাসে তিন কৃষকের মৃত্যুর খবরে জমি থেকে ফসল তুলতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

জেলার উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর, মহিদাপুর, দেবীপুর, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর করনেশনা, আংকের শেখের পাড়াসহ চরাঞ্চলে সাপের উপদ্রবে বাসিন্দারা ভয়ে ফসল কাটতে মাঠে যাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চর মজলিশপুর এলাকায় এপ্রিল মাসে জমি থেকে ভুট্টা তোলার সময় সাঈদুল শেখ নামের এক কৃষক সাপের কামড়ে মারা যান। তার আগে ২৯ মার্চ চর দেবীপুর মাঠে ময়না বেগম নামের এক কিষানিকে সাপে কামড়ায়। চিকিৎসা নেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

মহিদাপুরের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘২৭ মে দুপুরে মাঠে কাজ করার সময় কৃষক শামীম শেখসহ কয়েকজন পদ্মা নদী থেকে একটি নৌকা টেনে তীরে তুলছিলেন। নৌকার নিচে থাকা রাসেল ভাইপার সাপ শামীমের পায়ে কামড় দেয়।

লোকজন সাপটি মেরে তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন বিকেলে শামীম মারা যান। এরপর গত বুধবার ধান কাটার সময় কৃষকরা আরেকটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারেন। এখন ভয়ে কেউ জমিতে নামতে ও চরে যেতে সাহস পাচ্ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দারা সাপ আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শেখ রাসেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘পুরো চরাঞ্চলজুড়ে রাসেলস ভাইপার সাপের কারণে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ জমিতে যেতে চাচ্ছে না এবং ধান, ভুট্টা কাটতে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে কৃষকরা সাপ দেখে পিটিয়ে মেরে ফেলে মাটিতে পুঁতে ফেলছেন। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারসিম তারান্নুম হক বলেন, ‘গত মার্চ মাসে একজন, এপ্রিলে একজন ও মে মাসে দুজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। মাঝেমধ্যে সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে আসছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কেউ মারা যায়নি।

তাছাড়া আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন রয়েছে। সাপে কাটা রোগী বা পরিবারের কেউ আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে ওঝার কাছে না নিয়ে সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে। সাপে কাটার পর সময়মতো চিকিৎসা দিতে পারলে রোগী বেঁচে যাবে।’

এ দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকনউজ্জামান বিশেষ ধরনের জুতা পরে কাজ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষধর সাপের উপদ্রব বাড়ায় কৃষকরা চিন্তিত। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রথম অবস্থায় চরাঞ্চলের ১০০ জন কৃষককে গামবুট জুতা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্রমিকদের মধ্যেও বিতরণ করা হবে।’

Facebook Comments Box