কুড়িগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীর মারামারি হাসপাতালে একজন থানায় জিডি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
কুড়িগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীর মারামারি হাসপাতালে একজন থানায় জিডি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২২ আগস্ট ২০২৬: দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, বজ্রপাতের আশঙ্কা আজ শনিবার ২২ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শনিবার ২২ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গেলেন জাকের ও মুশফিক নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন: কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নিলেন ছয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর পুকুর থেকে শিশুর উদ্ধার ইউএস ওপেনে রেকর্ড প্রাইজমানি: জয়ী খেলোয়াড়রা পাবেন ১৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন তুরস্কের

কুড়িগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীর মারামারি হাসপাতালে একজন থানায় জিডি

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০২৩
কুড়িগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীর মারামারি হাসপাতালে একজন থানায় জিডি

কুড়িগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীর মারামারি হাসপাতালে একজন থানায় জিডি

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলীর সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফাল্গুনী তরফদারকে থাপ্পর, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী সুলতানা কেয়ার বিরুদ্ধে।

রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আহত মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ফাল্গুনী তরফদার বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তাকে লাথি বা থাপ্পর মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত খাদিজা সুলতানা কেয়া। উভয়ের মধ্যে শুধু বাকবিতন্ডা হয়েছে বলে দাবি তার।

পড়ুন>>লাকসামে পানিতে পড়ে দুই বোনের একসাথে  মৃত্যু

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী জেসমিন আরা লাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরকে স্বাগত জানানো এবং দেশব্যাপী বিএনপি-জামাতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানাতে সোমবার মহিলা আওয়ামী লীগ এর পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করার কথা ছিল।

এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে পরামর্শ করতে আমি, ফাল্গুনী আপা, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তহমিনা সহ কয়েকজন জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়েছিলাম। কেয়া সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন।

মিছিল আয়োজন নিয়ে তিনি ফাল্গুনী আপার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান।

এসময় হঠাৎ করে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফাল্গুনী আপাকে থাপ্পর, কিল-ঘুষি এবং কোমর ও পেটে লাথি মারেন।

এতে ফাল্গুনী আপা কোমরে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। জাফর ভাই এগিয়ে গিয়ে কেয়াকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁকে উপেক্ষা করে কেয়া ফাল্গুনীকে মারধর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা আওয়ামী লীগের এই সদস্য আরও বলেন, কেয়ার হামলায় ফাল্গুনী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামকে দেখানো হয়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর রাতে সোমবারের মিছিল কর্মসূচি স্থগিত করে মহিলা আওয়ামী লীগ।

সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ফালগুনী তরফদারকে আহত অবস্থায় আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা কিছুটা গুরুতর হওয়ায় আমি তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেই। বাকীটা হাসপাতাল থেকে জেনে নিন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাল্গুনী তরফদার বলেন,কেয়া মিছিল আয়োজন নিয়ে জাফর ভাইয়ের কাছে টাকা চায়। ভাই তাকে  আমার কথা বলে একসাথে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন।

কিন্তু সে অপারগতা প্রকাশ করে আমাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে। আমি এর প্রতিবাদ করলে  সে আমার গলা ধরে কোমর ও পেটে লাথি দেয়।

তিনি আরও বলেন, মুলত বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এবং প্রধানমন্ত্রীর রংপুর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে কুড়িগ্রামে নারীদের মিছিলের আয়োজন বানচাল করতে পুর্বপরিকল্পার অংশ হিসেবে কেয়া আমার উপর হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।

অভিযুক্ত খাদিজা সুলতানা কেয়া বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। শুধু একটু তর্কাতর্কি হয়েছে। আমি তাকে লাথি মারিনি। তার গায়ে হাতও দেইনি।

বরং সে জাফর চাচার সামনে আমাদের সাবেক সভাপতি নাজনিন আপার নাম ধরে তাকে ও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমাকে লাথি দেখায়। আমি প্রতিবাদ করেছি মাত্র। তাকে আঘাত করার কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওখানে উপস্থিত সবাই তার পক্ষের ছিল বলে আমার বিরুদ্ধে এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকার কথা স্বীকার করলেও সরকারী চাকুরী করে কিভাবে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ত থাকছেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা ও আওয়ামীলীগ নেত্রী খাদিজা সুলতানা কেয়া।

এ বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাফর আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সদর থানার ওসি মো.ফরিদ হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, একটি অভিযোগ (জিডি) পেয়েছি । অভিযোগ বিষয়ে তদন্তাধিন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি নেই। ফাল্গুনী তরফদার সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর খাদিজা সুলতানা কেয়া সেই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!