কুড়িগ্রামে উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি: প্লাবিত হচ্ছে চর-দ্বীপচর
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ২৩৮৫২ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি: প্লাবিত হচ্ছে চর-দ্বীপচর
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে আবারও হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীটির পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পড়ুন>> ঠাকুরগাঁওয়ে ম্যানেজারের চেয়ারে বসে নিজেকে সিইও দাবি যুবকের
একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পড়ুন>> সংবাদের তোলপাড়ে সরকারি অর্থ ফেরত দিলেন ভূরুঙ্গামারী শিক্ষা অফিসার
তিস্তা তীরবর্তী ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া বলেন, “পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, কুড়িগ্রাম ১৬ টি নদ-নদী বেষ্টিত জেলা একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না, তিনি জেলা প্রশাসনসহ শংস্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ ও বন্যা এলাকার মানুষের সহায়তায় দ্রুত সহায়তার দাবী জানান।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার উপজেলাগুলোতে ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন>> মাদক কিনতে যাওয়ার পথে জাল নোটসহ মাদক কারবারি আটক
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ কারণে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























