ইয়েমেনের হুথিদের ক্রমবর্ধমান চাপে সংকটে সৌদি আরব: বাড়ছে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৮:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের হুথিদের ক্রমবর্ধমান চাপে সংকটে সৌদি আরব: বাড়ছে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় রিয়াদ বর্তমানে এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে। হুথিদের ক্রমবর্ধমান এই দাপট সামাল দিতে গিয়ে সৌদি আরব এখন এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কঠোর জবাব দিতে গেলে তা একটি বড় ধরনের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, আবার রাজনৈতিক সমাধানের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উপসাগরীয় এই দেশটি ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
পড়ুন>>নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: শি জিনপিংয়ের ৫ দফা প্রস্তাব ও বিশ্ব ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক ও ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, রিয়াদের সামনে এখন পাল্টা হামলার পথ ছাড়া খুব একটা বিকল্প খোলা নেই। প্রতিদিন পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সৌদি আরবের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে হুথিরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে, যা লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত। পাশাপাশি বন্দর শহর মোচার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পরপরই সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। ইরাক থেকে এই হামলা চালানো হলেও নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে সৌদি আরব এখন এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যেখান দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়।
আরও পড়ুন>>ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ
সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যে সামরিক শক্তিতে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকলেও বিদ্রোহীদের পরাজিত করা রিয়াদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো হুথিদের ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে দেখলেও, বছরের ব্যবধানে তারা নিজেদের যুদ্ধকৌশল ও সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে হুথিদের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হুথিদের প্রধান দাবিটি এখনও অপরিবর্তিত। তারা উত্তর ইয়েমেনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি সৌদি আরবের আরোপিত দীর্ঘদিনের ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার শর্তে অনড়। হুথি নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রধান নাসর আল-দীন আমের শুক্রবার সিএনএনকে স্পষ্ট করেছেন যে, ১২ বছরের এই অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সৌদি আরবের ওপর তাদের চাপ অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন>>বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ৮৫ জন নিয়োগ: আবেদনের সময় ও পদ্ধতি
২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেন সংঘাত দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে, যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখন সহায়তার মুখাপেক্ষী। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো সিনজিয়া বিয়াঙ্কো সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব যদি সর্বাত্মক যুদ্ধে নামে, তবে এটি কেবল ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের দীর্ঘায়িত রূপ নেবে না, বরং এতে ইরানও সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। এটি তখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের একটি নতুন মোড় হিসেবে সামনে আসতে পারে, যেখানে সৌদি আরব সরাসরি মার্কিন মিত্র হিসেবে অংশ নেবে।
তবে ওয়াশিংটন নিজেও আপাতত সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসন রিয়াদের ওপর থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের চাপ প্রশমনের চেষ্টা করছে। শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে পর্দার আড়ালে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক পরামর্শক সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে সিএনএন একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন>>স্ত্রীসহ ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ
সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান আল-আনসারির মতে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ইতিমধ্যে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে তীব্রতর হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্ট ও দৃঢ় সমর্থন ছাড়া রিয়াদ সর্বাত্মক যুদ্ধে যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে হতাশা কাজ করছে। সিনজিয়া বিয়াঙ্কো বলেন, রিয়াদ গত কয়েক মাস ধরে যে ‘কৌশলগত ধৈর্য’ দেখিয়েছে এবং বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছে, তা কোনো ফল বয়ে আনেনি। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপাতত পাল্টা জবাব না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করা রিয়াদের জন্য কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল, যা তাদের রাজনৈতিক মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেবে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























