কাউনিয়ায় পাকা সেতুর দুই পার্শ্বে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করছে ১০ গ্রামের মানুষ
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
রংপুরের কাউনিয়ায় পাকা সেতুর দুই পার্শ্বে কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করছে ১০ গ্রামের মানুষ। জন দূর্ভোগ চরমে পাকা সেতুর দুই পার্শ্বে কাঠের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি নিয়ত পারাপার করছে ১০ গ্রামের মানুষ ।
কাউনিয়ায় সেতুর দুই পার্শ্বে কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়ত চলছে। প্রায় ৮ বছর ধরে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শক।
স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা প্রকৌশলী ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে
প্রশস্ত একটি নতুন সেতু নির্মাণের আবেদন করেও কোন ফল পায়নি এলাকা বাসী ।
সরেজমিনে বালাপাড়া ইউপির গোপিডাঙ্গা মৌলভি বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বন্যায় সেতুর দুই পাশের মাটি ভেঙে গেছে এবং সেতুর এক পাশ হেলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ন পাকা সেতুটির দুই পার্শ্বে নির্মিত কাঠের সাঁকো দিয়ে স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
জানাগেছে ২০১৪ সালে ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায়, এলজিইডি এর বাস্তবায়নে ৩৭ লক্ষ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালের জুন মাসে সেতুটির উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া।
সেতু নির্মাণের ২ বছর এলাকার কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহন এবং যাতায়াত ব্যবস্থার চরম উন্নতি ঘটে । কিন্তু মরা তিস্তা নদীর প্রশস্ততা অনুযায়ী সেতু টি আকারে ছোট হওয়ায় প্রতি বছর তিস্তার বন্যায় পানির প্রবল স্রোতে সেতুটির দুই পাশের মাটির সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যায়।
পরে স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্ঠায় ও ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়ণে সেতুর দুই পাশে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কাঠের সাঁকো দিয়ে সাইকেল, মোটর সাইকেল ও সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামত না করায় ১০ গ্রামের মানুষ কে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিতে দূর্ভোগের শেষ নেই। ভাঙা সেতু টির কারণে ফায়ার সার্ভিসে কর্মীরা গাড়ি নিয়ে এ এলাকায় ঢুকতে না পারায় অনেক বাড়ি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন জানান প্রতিবছর বন্যায় সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, কৃষি পণ্য নিয়ে হাটবাজারে যেতে পারি না, কম দামে কানি পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করতে হয়।
স্কুল ছাত্র আলামিন মিয়া জানায় তার মত অনেক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে স্কুল যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান বন্যায় সেতুর দুই পাশের মাটি ভেঙে যাওয়ায় মাটি কেটে সেতুর দুই পাশ ভরাট করা হয় । কিন্তু প্রতিবছর বন্যায় সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মাটি দিয়ে ভরাট করার পরিবর্তে কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে নড়বরে পাকা সেতুটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন সেতু নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর দপ্তরে ৪ বার আবেদন করেছি কোন কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তবনা পাঠিয়েছি কিন্তু কোন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মহোদয়ের সাথে কথা বলে আবারও প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
এলাবাসী গোপিডাঙ্গা মৌলভীবাজার মরা তিস্তা খালে প্রশস্ত একটি পাকা সেতু দ্রুত নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।


























