ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাক্তার-প্রকৌশলী থেকে পিএইচডি ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের শিক্ষকতায় ডিমলায় বিআরটিসির অবৈধ পাথর বোঝাই ট্রাক আটক রাণীশংকৈলে বৈদ্যুতিক নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন: সভাপতি সুমন, সম্পাদক মান্নান নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট: নতুন ইজরায়েলি রাজনীতির সমীকরণ উচ্চকক্ষের স্পিকারের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন প্রস্তাব সন্দ্বীপে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৫০ উইকেটের নতুন রেকর্ড গড়লেন শাহিন আফ্রিদি ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিচার বিভাগকে ক্ষমতার বাইরে রেখে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে এই কথা জানান। উক্ত আলোচনায় দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে কাজ করেছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গঠিত এই কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি জানান, বিরোধীরা বিএনপিকে নোট অব ডিসেন্ট শিথিলের কথা বলতে চাইলে সরাসরি বৈঠকে এসে আলোচনা করা উচিত। সরকার চায় সংবিধান সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় সব বিরোধী দল সমানভাবে অংশগ্রহণ করুক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে চেয়েছিল।

সংবিধানের কাঠামোগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। তবে গণভোটের ধারণাকে তারা স্বীকৃতি দেন, যদিও অতীতের প্রশ্নে কিছু বিতর্ক ছিল। জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ভবিষ্যতে যদি নতুন করে কোনো গণভোটের আয়োজন করা হয়, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়েই অনুষ্ঠিত হবে। তবে তাতে রাখা প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক আছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি বর্তমানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশিষ্ট নাগরিক, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জুলাই সনদের সফল বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নিজেদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকারের নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া গঠন। আলোচনা হয় ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিচার বিভাগকে ক্ষমতার বাইরে রেখে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে এই কথা জানান। উক্ত আলোচনায় দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে কাজ করেছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গঠিত এই কমিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি জানান, বিরোধীরা বিএনপিকে নোট অব ডিসেন্ট শিথিলের কথা বলতে চাইলে সরাসরি বৈঠকে এসে আলোচনা করা উচিত। সরকার চায় সংবিধান সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় সব বিরোধী দল সমানভাবে অংশগ্রহণ করুক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে চেয়েছিল।

সংবিধানের কাঠামোগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। তবে গণভোটের ধারণাকে তারা স্বীকৃতি দেন, যদিও অতীতের প্রশ্নে কিছু বিতর্ক ছিল। জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ভবিষ্যতে যদি নতুন করে কোনো গণভোটের আয়োজন করা হয়, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়েই অনুষ্ঠিত হবে। তবে তাতে রাখা প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক আছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি বর্তমানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশিষ্ট নাগরিক, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জুলাই সনদের সফল বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নিজেদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকারের নিরাপত্তা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া গঠন। আলোচনা হয় ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে।

Facebook Comments Box