ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা: ইউক্রেন সংকটে নতুন মোড়

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পড়ুন>>ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মস্কো ও কিয়েভে ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধির কূটনৈতিক তৎপরতা

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ করেছেন। শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের পর এবার তারা ইউক্রেনে গিয়ে একই রকম ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা করছেন। রোববার তাদের কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মস্কোর এই বৈঠকটি পুতিনের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি জানান, আলোচনার পরিধি কেবল ইউক্রেন সংকট সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক লাভজনক বড় ধরনের রুশ-মার্কিন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ:  ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছাত্রীর

উশাকভ আরও জানান, বৈঠকে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার বড় একটি অংশ ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। তবে পুরো যুদ্ধজুড়ে রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতির গতি ধীর এবং এতে বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কিয়েভ রাশিয়ার তেল স্থাপনার মতো অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছেন।

 

আরও পড়ুন>>গাজা সিটির জয়তুনে ধ্বংসস্তূপ থেকে মালকা পরিবারের ৫৫ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার

 

এদিকে, পুতিন ও জেলেনস্কি নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে তিন দিন একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন। তবে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আকাশপথে হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে।

কুশনার ও উইটকফ অতীতে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করলেও, এবারের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। ফলে মস্কো থেকে তারা ঠিক কীভাবে কিয়েভে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে এই সফরের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা: ইউক্রেন সংকটে নতুন মোড়

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পড়ুন>>ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে মস্কো ও কিয়েভে ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধির কূটনৈতিক তৎপরতা

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ করেছেন। শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের পর এবার তারা ইউক্রেনে গিয়ে একই রকম ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা করছেন। রোববার তাদের কিয়েভে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মস্কোর এই বৈঠকটি পুতিনের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, দুই পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি জানান, আলোচনার পরিধি কেবল ইউক্রেন সংকট সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক লাভজনক বড় ধরনের রুশ-মার্কিন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ:  ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছাত্রীর

উশাকভ আরও জানান, বৈঠকে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার বড় একটি অংশ ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। তবে পুরো যুদ্ধজুড়ে রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতির গতি ধীর এবং এতে বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কিয়েভ রাশিয়ার তেল স্থাপনার মতো অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছেন।

 

আরও পড়ুন>>গাজা সিটির জয়তুনে ধ্বংসস্তূপ থেকে মালকা পরিবারের ৫৫ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার

 

এদিকে, পুতিন ও জেলেনস্কি নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে তিন দিন একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন। তবে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আকাশপথে হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে।

কুশনার ও উইটকফ অতীতে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করলেও, এবারের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। ফলে মস্কো থেকে তারা ঠিক কীভাবে কিয়েভে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে এই সফরের মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে।

 

 

Facebook Comments Box