ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম জিতলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গাজার শিশুদের সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করলেন হামজা চৌধুরী ইসরাইলে শুরু হয়েছে ‘ডাবল খাম’ বা অবর্তমান ভোটের গণনা আরআরএফ-এ ৪৪০ পদে কর্মী নিয়োগ: ৬ নভেম্বর সিলেটে বাছাই পরীক্ষা লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান টোকিওর আদলে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন |: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাঁচ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪ ২৭২ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাঁচ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত

গত পাঁচ বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শনিবার (১৩ জুলাই) ধানমন্ডিতে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

এতে সংগঠনটি জানায়, ৫-১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৪১ জন। ১৮-২৫ বছর বয়সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৮ জন।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০১১ সালের ১১ জুলাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। ট্রাকটিতে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ৪২ শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় তাদের সঙ্গে নিহত হন আরও ৩ জন। দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত : পরিসংখ্যান ও পর্যালোচনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সাড়ে ৫ বছরে ১ হাজার ৫৩৪ শিক্ষার্থী পথচারী হিসেবে যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় নিহত হয়েছেন। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৭২১ শিক্ষার্থী। একইসময়ে মোটরসাইকেলচালক বা আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ জন। এতে ১৩-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত বাইকচালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, গত সাড়ে পাঁচ বছরের দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক ও মহাসড়কগুলোতে। এ সময় গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৩৩৯ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৪৮৬, আঞ্চলিক সড়কে ১ হাজার ৬৫১ ও মহাসড়কে ১ হাজার ১৪৩ শিক্ষার্থী নিহত হন।

নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায়, ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ পণ্যবাহী মোটরযানের চাপায়, ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাসচাপায়, ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাইসাইকেল ও প্যাডেল রিকশা এবং ৩৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর মানসিকতা এবং ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতাকে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সড়কে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু কমাতে সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইন আয়োজন করা, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের সড়ক নিরাপত্তামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকা, গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অন্যতম।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ জাহাঙ্গীর, ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফেরদৌস খান, ট্রেজারার ড. জাহিদুল ইসলাম, লিগ্যাল ইকোনমিস্ট মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিক প্রমুখ।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাঁচ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত

আপডেট সময় : ০১:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

পাঁচ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত

গত পাঁচ বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ হাজার ৬১৯ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শনিবার (১৩ জুলাই) ধানমন্ডিতে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

এতে সংগঠনটি জানায়, ৫-১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৪১ জন। ১৮-২৫ বছর বয়সি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৮ জন।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০১১ সালের ১১ জুলাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। ট্রাকটিতে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ৪২ শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় তাদের সঙ্গে নিহত হন আরও ৩ জন। দিনটিকে স্মরণ করে গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত : পরিসংখ্যান ও পর্যালোচনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সাড়ে ৫ বছরে ১ হাজার ৫৩৪ শিক্ষার্থী পথচারী হিসেবে যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় নিহত হয়েছেন। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৭২১ শিক্ষার্থী। একইসময়ে মোটরসাইকেলচালক বা আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ জন। এতে ১৩-২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মূলত বাইকচালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, গত সাড়ে পাঁচ বছরের দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক ও মহাসড়কগুলোতে। এ সময় গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৩৩৯ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৪৮৬, আঞ্চলিক সড়কে ১ হাজার ৬৫১ ও মহাসড়কে ১ হাজার ১৪৩ শিক্ষার্থী নিহত হন।

নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায়, ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ পণ্যবাহী মোটরযানের চাপায়, ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাসচাপায়, ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাইসাইকেল ও প্যাডেল রিকশা এবং ৩৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর মানসিকতা এবং ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতাকে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সড়কে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু কমাতে সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইন আয়োজন করা, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের সড়ক নিরাপত্তামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকা, গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অন্যতম।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ জাহাঙ্গীর, ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ফেরদৌস খান, ট্রেজারার ড. জাহিদুল ইসলাম, লিগ্যাল ইকোনমিস্ট মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিক প্রমুখ।

Facebook Comments Box