ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত জলবায়ুর হুমকিতে আশাশুনি: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিশোর শক্তি সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন ট্রাফিক ও সম্পত্তি আইন পাস করল কাতারের শুরা কাউন্সিল শিল্পাঞ্চল ও কেপিআই নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: মহাপরিচালক সুন্দরবনে দুই বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচ জেলে অপহৃত

পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্তত চার থেকে পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকেই এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

 

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে দলের এমন ভরাডুবির পর প্রশাসনের অনেক জ্যেষ্ঠ সদস্যই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে নামার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাচ্ছেন, যা হেনরি কিসিঞ্জারের পর আর কাউকে করতে দেখা যায়নি।

পড়ুন>>সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বহাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা অসম্ভব হওয়ায় তার সরে দাঁড়ানোটাকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। এ দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভ্যান্স ইতিমধ্যেই নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা সম্ভব নয়।

ইরান ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে রুবিওর তুলনামূলক নীরবতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষা চলছে। ব্রিটিশ সরকারের সাবেক ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে রুবিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত এবং দক্ষ হিসেবে সমাদৃত।

 

যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা রুবিওর পরবর্তী পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, রুবিও একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারেন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে শীঘ্রই তার বিদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে নীরব হয়ে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পড়ুন>>সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান

 

 

অন্যদিকে, প্রশাসনে থাকাকালে লাতিন আমেরিকা নীতিতে রুবিওর ভূমিকা নিয়েও ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে।

প্রশাসনের ভেতরেও রুবিওর অবস্থান কিছুটা জটিল। যদিও একসময় ট্রাম্প তাকে ‘লিটল মার্কো’ বলে কটাক্ষ করতেন, বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিতর্কও তার পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, ইরান যুদ্ধের দায়ভার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে এর পুরো দায় ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা রুবিওর ভবিষ্যতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে এসব আলোচনার বিপরীতে ভিন্নমতও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র বলছে, রুবিওর পদত্যাগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো নেই এবং প্রশাসনে অস্থিরতা এড়াতে তিনি আপাতত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পদত্যাগের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ভুয়া খবর হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত সেপ্টেম্বরে রুবিও নিজে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তিনি যে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। তার মতে, রুবিও প্রশাসনে বেশি দিন থাকবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না। বরং নির্বাচনের পর প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি দায়িত্বে থেকে যেতে পারেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

 

 

পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্তত চার থেকে পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকেই এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।

 

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে দলের এমন ভরাডুবির পর প্রশাসনের অনেক জ্যেষ্ঠ সদস্যই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে নামার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাচ্ছেন, যা হেনরি কিসিঞ্জারের পর আর কাউকে করতে দেখা যায়নি।

পড়ুন>>সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বহাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা অসম্ভব হওয়ায় তার সরে দাঁড়ানোটাকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। এ দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভ্যান্স ইতিমধ্যেই নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা সম্ভব নয়।

ইরান ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে রুবিওর তুলনামূলক নীরবতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষা চলছে। ব্রিটিশ সরকারের সাবেক ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে রুবিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত এবং দক্ষ হিসেবে সমাদৃত।

 

যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা রুবিওর পরবর্তী পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, রুবিও একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে পারেন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে শীঘ্রই তার বিদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে নীরব হয়ে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পড়ুন>>সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান

 

 

অন্যদিকে, প্রশাসনে থাকাকালে লাতিন আমেরিকা নীতিতে রুবিওর ভূমিকা নিয়েও ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে।

প্রশাসনের ভেতরেও রুবিওর অবস্থান কিছুটা জটিল। যদিও একসময় ট্রাম্প তাকে ‘লিটল মার্কো’ বলে কটাক্ষ করতেন, বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিতর্কও তার পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, ইরান যুদ্ধের দায়ভার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে এর পুরো দায় ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা রুবিওর ভবিষ্যতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে এসব আলোচনার বিপরীতে ভিন্নমতও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র বলছে, রুবিওর পদত্যাগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো নেই এবং প্রশাসনে অস্থিরতা এড়াতে তিনি আপাতত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন। এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পদত্যাগের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ভুয়া খবর হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত সেপ্টেম্বরে রুবিও নিজে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে তিনি যে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। তার মতে, রুবিও প্রশাসনে বেশি দিন থাকবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না। বরং নির্বাচনের পর প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি দায়িত্বে থেকে যেতে পারেন।

Facebook Comments Box